ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলকে নিয়ে পদ্মা সেতু হয়ে সড়কপথে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় গেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সন্তানদের সঙ্গে পদ্মা সেতু দিয়ে গ্রামের বাড়িতে এটিই প্রধানমন্ত্রীর প্রথম সফর। গতকাল সোমবার বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে পৈত্রিক বাড়িতে প্রবেশ করেন তিনি। এর আগে সকাল ৮টায় গণভবন থেকে টুঙ্গিপাড়ার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর ৮টা ৪৮ মিনিটে মাওয়া টোল প্লাজায় পদ্মা সেতুর টোল দিয়ে ওঠেন সেতুতে। ব্রিজের মাঝামাঝি গিয়ে সন্তানদের নিয়ে কিছু সময় পার করেন শেখ হাসিনা। সে সময় মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের ক্যামেরায় ছেলের সঙ্গে সেলফি তোলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সজীব ওয়াজেদ জয় তার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এ ছবি পোস্ট করেছেন। সকাল সোয়া ৯টার দিকে প্রধানমন্ত্রী জাজিরা প্রান্তে যান এবং সেখানে ফলকের সামনে কিছু সময় দাঁড়ান।

এরপর প্রায় ৪০ মিনিট বিশ্রাম নেন জাজিরা প্রান্তের সার্ভিস এরিয়া-২ এ। সোয়া ১০টায় সেখান থেকে টুঙ্গিপাড়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন প্রধানমন্ত্রী। টুঙ্গিপাড়ায় পৌঁছানোর পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের শহীদ সদস্যদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে ফাতেহাপাঠ ও বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন। প্রধানমন্ত্রীর এ সফর উপলক্ষে টুঙ্গিপাড়ায় নেতাকর্মী ও এলাকাবাসীর মধ্যে আনন্দ-উদ্দীপনা বিরাজ করে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয় সড়কের দু’পাশ। বঙ্গবন্ধুর সমাধিসৌধ চত্বরে শোভাবর্ধন করা হয়। এ ছাড়া সংস্কার করা হয় মধুমতি নদীর ওপর নির্মিত বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিবিজড়িত পাটগাতী ঘাটলায় যাওয়ার সড়ক। অন্যদিকে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পোশাক ও সাদা পোশাকে নিয়োজিত ছিলেন বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য।

এদিকে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া ও কোটালীপাড়া উপজেলার আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় তিনি বলেছেন, পদ্মা সেতু দক্ষিণাঞ্চলের ব্যাপক উন্নয়ন করবে। গতকাল সোমবার দুপুরে প্রায় ঘণ্টাব্যাপী টুঙ্গিপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এ কথা বলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপির সময় আওয়ামী লীগের সব নেতাকর্মীদের ওপর অত্যাচার নির্যাতন হয়েছে। জেল জুলুম হয়েছে। অনেক মানুষ মারা গেছে, অনেক লাশ হারিয়ে গেছে। শেখ হাসিনা বলেন, আইয়ুব খান, ইয়াহিয়া খান, এরশাদ, জিয়া সব আমলেই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতন করা হয়েছে। কিন্তু শত নির্যাতনের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ সাংগঠনিকভাবে সবসময় শক্তিশালী ছিল। বিশেষ করে আমাদের মাঠ কর্মীরা সবসময় সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং তারাই কিন্তু দলকে ধরে রেখেছেন।

প্রধানমন্ত্রী অনুন্নত দক্ষিণ ও উত্তরাঞ্চলের অবস্থা তুলে ধরে বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পরে আমি যখন দেশে ফিরে আসি তখন সবচেয়ে অবহেলিত ছিল দক্ষিণাঞ্চল। উত্তরাঞ্চল ছিল মঙ্গাকবলিত এলাকা। তখন কোনো মানুষের গায়ে মাংস ছিল না। তাদের খাবার ছিল না। রোগের চিকিৎসা ছিল না। আর প্রতিবছর দুর্ভিক্ষ হতো। তখন থেকে আমার একটা প্রতিজ্ঞা ছিল যখন সুযোগ পাবো তখন দেশের জন্য কাজ করবো। এখন উত্তরাঞ্চলে মঙ্গা নেই। পদ্মা সেতুর মাধ্যমে দক্ষিণাঞ্চলেও ব্যাপক উন্নয়ন হবে। এসময় সংসদ সদস্য শেখ হেলাল উদ্দিন, শেখ সালাউদ্দিন জুয়েল, গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব আলী খান, টুঙ্গিপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. বাবুল শেখ, টুঙ্গিপাড়া পৌরসভার মেয়র শেখ তোজাম্মেল হক টুটুলসহ টুঙ্গিপাড়া ও কোটালীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।-এফএনএস