দেলোয়ার হোসেন রনি, গোমস্তাপুর : পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে মুসলমানগণ প্রতি বছর মহান সৃষ্টিকর্তার নৈকট্য লাভের আশায় পশু কুরবানী দিয়ে থাকেন। আর এ পশুর মধ্যে অন্যতম হলো গরু। প্রতি বছর এই দিনটিকে সামনে রেখে গরু ব্যবসায়ীরা তাদের পালিত গরু কুরবানীর জন্য উপযোগী করে রাখেন। আর তাই এবার চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরে প্রায় ৩৭ হাজার গরু কুরবানীর জন্য প্রস্তুত করে রেখেছে গরু ব্যবসায়ী ও খামারীগণ। অবশ্য চাহিদার তুলনায় ১০/১২ হাজার গরু বেশী রয়েছে। যা জেলার মধ্যে সর্বোচ্চ। এর কারণ হিসেবে গত দুই বছরে করোনার প্রাদূর্ভাব থাকাতে গরুর ব্যবসা মন্দা হওয়ায় এবার পরিমানটা বেশী হয়েছে। গরু ব্যবসায়ী ও খামারীরা গরুকে উপযোগী করে তুলতে মোটাতাজাকরণ পদ্ধতি সহ বিভিন্ন পদ্ধতি অবলম্বন করেছে। এসব গরু কুরবানীর কয়েকদিন আগে ঢাকা/চট্টগ্রাম সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হয়।

 

সরেজমিনে রহনপুর পৌর এলাকার মমতাজ ডেইরী এন্ড ক্যাটেল ফার্ম, মেসার্স আবদুল্লাহ ডেইরী ফার্ম, রাজু ডেইরি খামার পরিদর্শন করে দেখা গেছে, এসব খামারগুলোতে কুরবানী উপলক্ষে গরু পালন করা হচ্ছে। যাতে কুরবানীর সময় মুসলমানগণ তাদের চাহিদা অনুযায়ী গরু ক্রয় করতে পারেন। এ প্রসঙ্গে কথা হয় মমতাজ ডেইরী এন্ড ক্যাটেল ফার্মের রেজাউল করিমের সাথে। তিনি বলেন, তাদের ফার্মে ৮০ টি গরু কুরবানীর জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। তবে এবার গরু পালন করে তেমন লাভ হবেনা বলে তিনি ধারনা করছেন। এর কারণ হিসেবে তিনি গরুর বিভিন্ন খাবারের ঊর্ধ্বমুখী মূল্যের কথা বলেন। তারপরেও তিনি আশা করেন হয়তো ঢাকা/চট্টগ্রামে গিয়ে বিক্রয় করলে ভালো দাম পাওয়া যাবে।

 

রাজু ডেইরী খামারের মালিক নুহু আলম বলেন, এবার গরুর খাদ্যের দাম অনেক বেশী হওয়ায় কুরবানীর সময় গরু বিক্রি করা নিয়ে টেনশনে আছি। ভাবছি, এতো খরচ করে গরুগুলোকে লালন পালন করলাম উপযুক্ত দাম পাবো কিনা। তাছাড়া তিনি অভিযোগের শুরে বলেন কুরবানী উপলক্ষে গরুগুলোকে যখন সড়কযোগে ঢাকা/ চট্টগ্রাম নিয়ে যায় তখন পথে আমাদের নানা উপদ্রব ও বিড়ম্বনা সহ্য করতে হয়।

 

খামারী সজিব আলী বলেন, আমার খামারে ১৮ টি গরু কুরবানীর জন্য উপযোগী করে পালন করছি। সরকার যদি গরুর খাদ্যের দাম কমিয়ে দিয়ে সহজ শর্তে ও অল্প সুদে ঋণ দেয়ার ব্যবস্থা করতো তাহলে আরো বেশী করে গরু পালন করতে পারতাম। যাতে করে দেশের মানুষের মাংসের চাহিদা অনেকাংশে মেটানো যেতো। গোমস্তাপুর উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. কাওসার আলী জানান, আমি নিয়মিত খামার মালিকদের সাথে যোগাযোগ রাখছি। প্রয়োজনে সরাসরি খামারে যাচ্ছি। কুরবানী উপলক্ষ্যে যে সমস্ত গরু উপযোগী করে তোলা হচ্ছে সেসব গরুর বিষয়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করছি। বিশেষ করে ভ্যাকসিনের বিষয়টি আমরা ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করছি. যাতে করে সুস্থ/সবল গরুগুলো ধর্মপ্রান মুসলমানগন কুরবানী করতে পারে।