মো: শাহাদাত হোসেন : স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী শেষে দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রমালিকানাধীন বাণিজ্যিক ব্যাংক সোনালী ব্যাংক লিমিটেড এর ৫০ (পঞ্চাশ) বছর পূর্তি হচ্ছে। স্বাধীনতা পরবর্তী দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতিকে গতিশীল করতে মহান স্বাধীনতার স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নিজে নামকরণ করেন সোনালী ব্যাংক লিমিটেড। এরপর থেকেই নিজ হাতে গড়েন সোনালী ব্যাংক লিমিটেড। দেশের এক নামে পরিচিত এবং সেবায় শীর্ষে থাকা ব্যাংকের মধ্যে সোনালী ব্যাংক লিমিটেড আছে সবার প্রথমে। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধিত্বকারী ব্যাংক হিসেবে সোনালী ব্যাংক লিমিটেড তার পরিচালনা পর্ষদ ও দক্ষ নেতৃত্বে বিশাল কর্মী বাহিনীর মাধ্যমে সহজেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সাহসীকতার সাথে সেবা দিয়ে যাচ্ছে। সোনালী ব্যাংক লিমিটেড থেকে প্রত্যন্ত এলাকার মানুষ সেবা পেয়ে আজ গর্বিত। সেবার মান উন্নত ও সহজলভ্য হওয়ায় দিন দিন নতুন করে গ্রাহক বৃদ্ধি পাচ্ছে। কৃষক-শ্রমিক, শিক্ষার্থী, চাকুরিজীবী সবাই এখন নিজেদের প্রয়োজনবোধ থেকে মনে করেন সোনালী ব্যাংকে একটি ব্যাংক হিসাব খোলা দরকার।

বাংলাদেশ তৃতীয় বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশ হলেও এখানকার মানুষ শান্তিপ্রিয়। এ শান্ত মানুষের একমাত্র নির্ভরযোগ্য ব্যাংক সোনালী ব্যাংক লিমিটেড। সোনালী ব্যাংক লিমিটেড মোট ১২২৬টি শাখা নিয়ে দেশের মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে কৃতিত্বের সাথে নিরবিচ্ছিন্নভাবে সেবা প্রদান করছে। শুধু নগর কিংবা শহরেই না সোনালী ব্যাংক লিমিটেড এখন ইউনিয়ন পর্যায়ে পৌঁছে মানুষের দ্বারে দ্বারে সেবা দিয়ে যাচ্ছে। দক্ষ জনবলকে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সোনালী ব্যাংক লিমিটেড এখন শুধু সেবা নয় বরং সর্বোচ্চ মুনাফা অর্জন করে সবার শীর্ষে অবস্থান করছে। তাইতো মুজিব বর্ষের দৃপ্ত শপথ নিয়ে সবার শীর্ষে থাকার মাধ্যমে দূরন্ত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে সোনালী ব্যাংক লিমিটেড। গ্রাহকের সাথে সহযোগিতা ও সহানুভূতিশীল আচরণের মাধ্যমে মন জয় করতে সক্ষম হয়েছে সোনালী ব্যাংক লিমিটেড। এ ব্যাংকের প্রতি এখন সবার আস্থা ও বিশ্বাস বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই সোনালী ব্যাংক লিমিটেড এখন গণমানুষের ব্যাংকে পরিণত হয়েছে। কারণ দেশ ছাড়িয়ে বিদেশ থেকেও খুব সহজেই টাকা সংগ্রহ করতে পারছে সোনালী ব্যাংক লিমিটেড এর মাধ্যমে। গ্রামের দরিদ্র মানুষ যখন বিদেশ থেকে পাঠানো টাকা সহজেই উত্তোলন করতে পারেন তখনই মনে হয় সোনালী ব্যাংক লিমিটেড এর স্বার্থকতা।

সেবার মানসিকতা গড়তে এবং দক্ষতা বৃদ্ধিতে সোনালী ব্যাংক লিমিটেড তার কর্মকর্তা-কর্মচারিদের জন্য ট্রেনিং ইন্সটিটিউট এর মাধ্যমে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বিভিন্ন ধরনের ১.২৫ কোটি গ্রাহক যেন উন্নত সেবা পেতে পারেন সে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে দক্ষ জনবল দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে আছে। সোনালী ব্যাংক লিমিটেড আজ আস্থা ও বিশ্বাসের অপর নাম। নামে বেনামে বিভিন্ন এনজিও লাভের প্রলোভন দেখালেও গ্রাহক তাঁদের আর্থিক নিরাপত্তার জন্য খুঁজে নেন সোনালী ব্যাংক লিমিটেড। তাইতো মূলধনের মাইলফলক অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে সোনালী ব্যাংক লিমিটেড। স্বল্প মুনাফায় সোনালী ব্যাংক লিমিটেড আজ বিভিন্ন ঋণ সুবিধা দিচ্ছে। দেশের যে অভাবনীয় উন্নয়ন তার শিরায় শিরায় প্রবাহিত হচ্ছে সোনালী ব্যাংক লিমিটেড এর উন্নত সেবা ও সহযোগিতা। ১০ টাকার কৃষক হিসাব থেকে শুরু করে কোটি কোটি টাকার ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে গ্রাহক নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যে লেনদেন করে যাচ্ছেন। ৫১টি সেবার মধ্যে কোন খরচ ছাড়ায় প্রায় ৩৭ ধরনের সরকারি সেবা দিয়ে যাচ্ছে সোনালী ব্যাংক লিমিটেড। অন্যান্য ব্যাংক ও প্রতিষ্ঠান যখন সরকারি বিভিন্ন ভাতা সুষ্ঠুভাবে দিতে ব্যর্থ সেখানেই সোনালী ব্যাংক লিমিটেড এর সফলতা। গ্রাহকসেবার মান উন্নত ও ডিজিটাল হওয়ায় সরকার আগের চেয়ে সোনালী ব্যাংক লিমিটেড এর প্রতি বেশি আস্থাশীল। যেকোন সরকারি ভাতা প্রদানের ক্ষেত্রে তাই এখন প্রথমেই বেছে নিচ্ছে সোনালী ব্যাংক লিমিটেডকে।

তথ্যপ্রযুক্তির উন্নয়নের সমানতালে দুর্বার গতিতে সামনে এগিয়ে যাচ্ছে সোনালী ব্যাংক লিমিটেড। গ্রাহক আজ ঘরে বসে মাত্র ২ মিনিটে নিজের ব্যাংক হিসাব খুলতে পারে। সোনালী ই-ওয়ালেট অ্যাপস ব্যবহার করে গ্রাহক টাকা স্থানান্তর করতে পারছে নির্বিঘ্নে। বিদেশ থেকে টাকা পাঠালে গ্রামের পরিবার সহজেই সোনলী ব্যাংক থেকে উত্তোলন করতে পারছেন। সোনালী ব্যাংক লিমিটেড আজ ডিজিটাল ব্যাংকিং এ প্রবেশ করেছে। এখন আর গ্রাহককে ব্যাংকে এসে ভীড় করতে হচ্ছে না। কারণ ঘরে বসেই অ্যাপসের মাধমে সহজেই টাকা জমা, স্থানান্তর করা যাচ্ছে। অনলাইনের মাধ্যমে টাকা পাঠানো এবং অন্য ব্যাংক হিসাবে টাকা স্থানান্তর করার জন্য সোনালী ব্যাংক লিমিটেড ব্যবহার করছে বিভিন্ন ডিজিটাল পদ্ধতি। এটিএম কার্ডের মাধ্যমে গ্রাহক ২৪ ঘন্টা সেবা নিতে পারছেন। কিন্তু দেশের সর্ববৃহৎ ব্যাংক হয়েও এখানে এটিএম বুথের স্বল্পতার জন্য গ্রাহক বিভিন্ন সময় বিড়ম্বনার শিকার হন। যেখানে বিনা খরচে সোনালী ব্যাংক লিমিটেড এর এটিএম বুথ থেকে কার্ডের মাধ্যমে টাকা উত্তোলন করা যায় সেখানে অন্য ব্যাংকের বুথ ব্যবহার করলে গ্রাহককে অতিরিক্ত খরচ দিতে হয়। এখনও গ্রাহকদের অভিযোগ ও পরামর্শ সোনালী ব্যাংক লিমিটেড এর যথেষ্ট এটিএম বুথ নাই। আর হ্যাঁ সত্যি। যেখানে বেসরকারি ব্যাংকগুলো উপজেলা ছাড়িয়ে ইউনিয়নের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এটিএম বুথ ও এজেন্ট ব্যাংকিং এর মাধ্যমে সেবা দিচ্ছে সেখানে সোনালী ব্যাংক লিমিটেড এর এটিএম বুথ শুধু জেলা সদরেই আটকে আছে। এখনও উপজেলাতেই পৌঁছেনি এ ডিজিটাল সেবা। তবে সোনালী ব্যাংক লিমিটেড তথ্যপ্রযুক্তির দিকে ইদানিং মনোযোগ দিয়েছে। বিকাশের সাথে সংযুক্ত হয়ে গ্রাহক সহজেই টাকা উত্তোলন ও পাঠাতে পারে। মোবাইল রিচার্জ করতেও গ্রাহকের পাশে এগিয়ে এসেছে সোনালী ব্যাংক লিমিটেড। তাইতো বলা যায় উন্নয়নের মহাসড়কে সোনালী ব্যাংক লিমিটেড চালক হিসেবে তার গ্রাহকদের নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে।

বাংলাদেশের এমন মানুষ নেই যিনি সোনালী ব্যাংক লিমিটেড এর নাম শুনেননি। সরকারি বিভিন্ন কাজ আজ সোনালী ব্যাংক লিমিটেড এর মাধ্যমেই হয়ে থাকে। চালানের মাধ্যমে সরকারের রাজস্ব আদায় করে দেশের অর্থনীতিকে গতিশীল করতে সোনালী ব্যাংক লিমিটেড এর তুলনা হয় না। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা, বিধবা ভাতা, মাতৃত্ব ভাতা, বয়স্ক ভাতা, হিজড়া ভাতা ছাড়াও সরকারের বিভিন্ন সহযোগিতামূলক কার্যক্রম অত্যন্ত দক্ষতার সাথে পরিচালনা করে আসছে সোনালী ব্যাংক লিমিটেড। সাধারণ কাজের পাশাপাশি সোনালী ব্যাংক লিমিটেড এখন ইসলামিক উইন্ডোর মাধ্যমে শরিয়াহ ভিত্তিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। সরকারি বিভিন্ন হিসাব ও বিভিন্ন ফি সংগ্রহের ক্ষেত্রে সোনালী ব্যাংক লিমিটেড সুনামের সাথে কাজ করে যাচ্ছে। জনবল ঘাটতি থাকলেও দিনরাত পরিশ্রম করে দক্ষ কর্মীবাহিনী নিয়ে সোনালী ব্যাংক লিমিটেড নিপুণভাবে তাদের সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনার মাধ্যমে কাজ করে যাচ্ছে। তাইতো শুধু সেবাই না সর্বোচ্চ মুনাফা অর্জন করেও সোনালী ব্যাংক লিমিটেড বর্তমানে শীর্ষস্থানে অবস্থান করছে। তবে এখনও বিভিন্ন শাখায় গ্রাহক সেবা ভালো হচ্ছে না বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। তবে গ্রাহক সেবা ভালো না পাওয়ার কারণ হিসেবে আমরা জনবল স্বল্পতাকে উল্লেখযোগ্য করণ বলে মনে করছি। সোনালী ব্যাংক লিমিটেড যদি তার জনবল ঘাটতি দূর করতে পারে তবে আগামীতে উন্নত গ্রহক সেবার মাধ্যমে আরো বেশি মুনাফা অর্জনে সক্ষম হবে বলে আশা করছি।

বিভিন্ন বৈদেশিক সংস্থার সহযোগিতা ও বিদেশ থেকে ঋণ নিতে সরকার আগ্রহ হারাচ্ছে। এজন্য দেশের মানুষের পুঁজিকে কাজে লাগাতে সঞ্চয় ব্যুরোর মাধ্যমে সঞ্চয়পত্র বিক্রি করে সরকার অর্থ সংগ্রহ করছে। আর সঞ্চয়পত্র বিক্রিতে প্রধান ভূমিকা পালন করছে সোনালী ব্যাংক লিমিটেড। প্রতিদিন ব্যাংকে হাজার হাজার মানুষ ভীড় করছে সঞ্চয়পত্র ক্রয়ের জন্য। এখন মানুষ সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে তুলছে ব্যাংককে ব্যবহার করে। সোনালী ব্যাংক লিমিটেড এখন সঞ্চয়পত্র ক্রেতার আস্থার যায়গা। গ্রাহক খুব সহজেই হিসাব খুলে সঞ্চয়পত্র ক্রয় করতে পারছেন। সঞ্চয়পত্র গ্রাহকের জন্য একটা নিরাপদ বিনিয়োগ। আর গ্রাহক এ বিনিয়োগের সুযোগ পাচ্ছেন সোনালী ব্যাংক লিমিটেড এর মাধ্যমে।

করোনকালীন যখন দেশের সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে হিমশিম খাচ্ছিলো তখন সোনালী ব্যাংক লিমিটেড তার সেবার মাধ্যমে নিজেকে টিকিয়েই রাখেনি বরং সবার শীর্ষ অবস্থানে পৌঁছেছে। কোভিড-১৯ বা করোনা ভাইরাস বিশ্ব অর্থনীতির উপর এক ধ্বংসের বার্তা নিয়ে আগমন করে। বিশ্বের অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী দেশগুলো যখন নিজেদেরকে স্বাভাবিক অবস্থানে ফিরিয়ে আনতে বেগ পাচ্ছিলো তখন বাংলাদেশ সরকার তাদের দক্ষ নেতৃত্বের মাধ্যমে প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় এনে ব্যবসায়ীদের পাশে ছিলো। সোনালী ব্যাংক লিমিটেড তার ঋণগ্রহিতাদের অতিরিক্ত সুবিধা প্রদান করে করোনাকালে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। বৈশ্বিক মহামারি কোভিড-১৯ এ যখন দেশে মৃত্যুর হার ও আক্রান্ত উভয়ই বাড়ছিলো তখন সরকার বিভিন্ন মেয়াদে লকডাউন, শাটডাউন ইত্যাদির মাধ্যমে মানুষকে ঘরে রাখতে বাধ্য করে। দেশের সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও অফিসও বন্ধ করে দেয়া হয়। ব্যাংকগুলো রোস্টারিং করে চালু রাখলেও সোনালী ব্যাংক লিমিটেড সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে নিরবিচ্ছিন্ন সেবা দিয়ে গ্রাহকের পাশে ছিলো। জনবল ঘাটতি থাকলেও কর্মকর্তাদের দৃঢ় মনোবল ও কর্তৃপক্ষের সেবামূলক সুচিন্তিত পরিকল্পনায় গ্রাহক সহজেই সেবা পেয়েছেন। সোনালী ব্যাংক লিমিটেডে দায়িত্ব পালনকালে কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়ে অনেকে মৃত্যুবরণ করেছেন। অধিকাংশ শাখায় কেউ না কেউ কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়েছেন। এরপরও শাখা লকডাউন হয়নি। অনেকেই চোখের সামনে করোনায় আক্রান্ত হয়ে নিজের সহকর্মীকে মৃত্যুর মুখোমুখী দেখেছেন। পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনদের কথা উপেক্ষা করে দেশের বৃহত্তর স্বার্থে প্রতিষ্ঠানকে ভালোবেসে সোনালী ব্যাংক লিমিটেড এর কর্মকর্তা ও কর্মচারিরা মহামারিকালীন সাহসীকতার সাথে দৃঢ় মনোবল নিয়ে কাজ করে গেছেন। তাই বলা যায় দেশের যে অগ্রগতি ও উন্নতি তাতে সোনালী ব্যাংক লিমিটেড এর অবদান অস্বীকার করা যাবে না।

একসময় প্রচলন ছিলো ঋণ নিতে ব্যাংকে ঘুষ দিতে হয়। সোনালী ব্যাংকে অতীতে হয়তো এমনটা ঘটতো। কিন্তু বর্তমানে এমন নজির নাই। গ্রাহক সহজেই শর্ত পূরণ করে ঋণ নিতে পারছেন। তাদের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় বা ঘুষ দিতে হচ্ছে না। বাংলাদেশ জাতিসংঘ কর্তৃক আয়োজিত ‘‘Convention Against Corruption’’ এ স্বাক্ষর করে হুইসেল ব্লোয়িং আইন প্রণয়ন করে। দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সোনালী ব্যাংক লিমিটেড ‘‘হুইসেল ব্লোয়িং পলিসি-২০২১’’ অনুমোদন করে। এ ব্যাংকে দুর্নীতি ও অবৈধ অর্থের লেনদেন করে কোন কর্মকর্তা ছাড় পাবেন না। অতীতে নতুন হিসাব খুলতে বা ডিপোজিট স্কিম ভাঙাতে অতিরিক্ত অর্থ লেনদেনের কথা শোনা যেতো। কিন্তু এখন তরুণ ও মেধাবী অফিসারগণ এমন চিন্তা করতেই পারেন না। তাঁরা মনে করেন কীভাবে আরো ভালো সেবা দেওয়া যাবে। সোনালী ব্যাংক লিমিটেড ব্যাংকিং লেনদেন সর্বদা রশিদ বা ভাউচারে গ্রহণ করতে বিশ্বাসী। কোন ধরণের অতিরিক্ত অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে অন্যায়ভাবে কাজ করে দেয়া থেকে এখন সবাই বিরত থাকে। তাইতো হুইসেল ব্লোয়ার্স দিবসের প্রতিপাদ্য শ্লোগান হচ্ছে ‘‘বাজাও বাজাও হুইসেল, দুর্নীতিকে করো ক্যানসেল’’।

নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশ ক্রমেই সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। জাতীয় আয় ও উন্নয়নে পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও সমান ভূমিকা রাখছে। নারীদের জন্য কর্ম পরিবেশ তৈরিতে সোনালী ব্যাংক লিমিটেড গ্রহণ করেছে ‘‘সোনালী ছাতা” কর্মসূচি। বর্তমানে সোনালী ব্যাংক লিমিটেড-এ মোট জনবলের প্রায় ১৫% নারী। নারী কর্মীদের স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ তৈরি করে সোনালী ব্যাংক লিমিটেড নারীদের সাথে অনৈতিক আচরণ প্রদর্শন ও বৈষম্যমূলক নীতি অনুসরণ থেকে বিরত রাখতে সকলের প্রতি নির্দেশ দিয়েছে। নারী সহকর্মীদের সার্বিক নিরাপত্তা ও সুরক্ষাসহ তাদের নিরাপদে রাখতে তাই সকলেই এখন আন্তরিকতার সাথে কাজ করছেন। নারী উদ্যোক্তারা যেন স্বাবলম্বী হতে পারেন তাই তাদের জন্য রয়েছে বিভিন্ন ঋণ সুবিধা। সোনালী ব্যাংক লিমিটেড থেকে সহজেই ঋণ নিয়ে অনেক নারী আজ পরিবারের হাল ধরেছে। হাঁস-মুরগী, গরু-ছাগল পালন করে এখন গ্রামীণ নারীরাও পুরুষের পাশাপাশি পরিবারের আয়ে ভূমিকা রাখছেন। সাধারণ নারী গ্রাহকদের জন্য সোনালী ব্যাংক লিমিটেড আলাদা সেবা দিতে বদ্ধ পরিকর। সরকার গৃহীত বিধবা ভাতা, মাতৃত্ব ভাতাসহ নারীদের জন্য বিভিন্ন ভাতা বা অনুদান সোনালী ব্যাংক লিমিটেড এর মাধ্যমে দেয়া হয়। এ

খানে নারীদের যেভাবে সেবা দেয়া হয় তা অতুলনীয়। তাই আজ গ্রামীণ নারীদের কাছেও সোনালী ব্যাংক লিমিটেড এক পরিচিত ও নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠিান হিসেবে সমাদৃত। বর্তমান সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে সোনালী ব্যাংক লিমিটেড তার নিবেদিত জনবল নিয়ে যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে তাতে মনে হয় কাক্সিক্ষত সেবা দিয়ে মুনাফা অর্জনে সর্বদায় সবার প্রথমে থাকবে। সোনালী ব্যাংক লিমিটেড তার কাজ ও সেবার মাধ্যমে নিজের ভাবমূর্তিকে উজ্জ্বল করেছে। মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করা সবচেয়ে কঠিন কাজ। কিন্তু কারো প্রতি একবার ভালোবাসা অর্জন করতে পারলে তাকে আর ফিরে তাকাতে হয় না। সোনালী ব্যাংক লিমিটেড সবার আস্থা ও ভালোবাসা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। তাই প্রতিদিন সোনালী ব্যাংক লিমিটেডে গ্রাহকরা নতুন করে ভীড় জমাচ্ছে। সেবার মান ও আচরণে মুগ্ধ হয়ে অনেক বৃদ্ধ গ্রাহকের মনের অজান্তেই চোখ দিয়ে অশ্রু ঝরে। সোনালী ব্যাংক লিমিটেড কর্মকর্তারা হাজারো মানুষের দোয়া ও আশীর্বাদ পেয়ে থাকেন। মানুষের ভালোবাসা ও দোয়ার চেয়ে আর বড় কিছু পাওয়ার থাকে না। সোনালী ব্যাংক লিমিটেড আগামীর সমৃদ্ধ ও উন্নত বাংলাদেশ গড়তে সেবার মনোভাব আরো বাড়িয়ে গণমানুষের পাশেই থাকবে বলে সবার প্রত্যাশা। আর মানুষের এ প্রত্যাশা পূরণ করে সোনালী ব্যাংক লিমিটেড জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে পাশেই থাকবে। লেখক : অফিসার (আইটি), সোনালী ব্যাংক লিমিটেড, গোমস্তাপুর শাখা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ।