মচমইল থেকে সংবাদদাতা : রাজশাহীর বাগমারায় ধলার বিলে চাষকৃত মাছে বিষ প্রয়োগ করেছে দুর্বৃত্তরা। এতে প্রায় ৪৫-৫০ লাখ টাকার সমপরিমান ক্ষতি হয়েছে বলে জানাগেছে। বিলে বিষ প্রয়োগ করায় পানিতে বিষক্রিয়ার সৃষ্টি হয়ে বোয়াল, রুই, কাতলা, মৃগেল, সিলভার কার্প, জাপানী এবং দেশীয় বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা সহ মজুদকৃত মাছ মরে গেছে। বিলে পাহারাদার থাকলেও তার অজান্তেই ঘটনাটি ঘটেছে বলে জানাগেছে।

বিলটি উপজেলার শুভডাঙ্গা ইউনিয়নের পাইকপাড়া, ধামিন কামনগর এবং বাসুপাড়া ইউনিয়নের কামনগর গ্রামের মাঝে অবস্থিত ধলার বিল। বিলের কয়েকটি গ্রামের কৃষকসহ প্রায় ৪০ জন ব্যক্তি যৌথ ভাবে মাছ চাষ করে আসছেন।
গত রবিবার দুর্বৃত্তরা তরল জাতীয় বিষ বিলের বিভিন্ন স্থানে ফেলে যায়। এতে ওই বিলে চাষকৃত মাছ মরে পানিতে ভেসে উঠে। খবর পেয়ে বিলের চারিপাশের লোকজন মরে ভেসে ওঠা মাছ ইচ্ছে মতো তুলে নিয়ে গেছে। রবিবারে বিষ প্রয়োগ করা হলেও সোমবার সকালেও ধলার বিলের মাছ মরে ভেসে উঠে। ধলার বিলে মাছ চাষ করে আসছেন ধলার বিল মৎস্য সমিতি নামে একটি সংগঠন। বিষ দিয়ে মজুদকৃত মাছ নিধনের ঘটনায় ভেঙ্গে পড়েছেন মৎস্য চাষীরা। কেবলই লক্ষ লক্ষ টাকা ব্যয় করে মাছ মজুদ করা হয়েছে। শত্রুতা করে দুর্বৃত্তদের দেয়া বিষে মাছগুলো মরে পানিতে ভেসে উঠেছে।

জানাগেছে, ধলার বিল মৎস্য সমিতির পক্ষ থেকে গভীর নলকূপে সেচ ব্যবস্থার মাধ্যমে বিনামূল্যে কৃষকদের ধানের আবাদ করে দেয়া হয়। সেই সাথে যে সকল কৃষকের জমি বিলের একদম নিচে তাদেরকে অর্থ প্রদান করা হয়ে থাকে সমিতির মাধ্যমে। এভাবেই দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে মাছ চাষ করা হচ্ছে। নতুন ভাবে আবারও আগামী ৩ বছরের জন্য মাছ চাষ শুরু করেছে ধলার বিল মৎস্য সমিতি। জমির মালিকদের সাথে মাছ চাষ নিয়ে কোন বিরোধ না থাকলেও শত্রুতা করে বিলের চাষকৃত মাছে বিষ প্রয়োগ করেছে দুর্বৃত্তরা।
নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষে প্রায় ২ কোটি টাকার মাছ বিক্রয় হতো বলে জানান ধলার বিল মৎস্য সমিতির সভাপতি আতিকুর রহমান আতিক। মৌসুমের আগেই মাছগুলো বিষ দিয়ে মেরে ফেলে অনেক টাকার ক্ষতি সাধন করেছে বলেও জানান তিনি।

বর্তমানে মাছগুলো পচে নষ্ট হওয়ায় খাওয়ার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। দুর্বৃত্তদের দেয়া বিষের বিষক্রিয়ায় মাছ মরে গেছে। বিয় দিয়ে মাছ মেরে ফেলার ঘটনায় থানায় একটি অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানান ধলার বিল মৎস্য সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম। তিনি আরো বলেন চলতি মাসের ১৪ তারিখে সর্বপ্রথম মাছ চাষের জন্য বিলে দেয়া বানাকেটে ফেলে দেয়া হয়। এ সময় চাষকৃত মাছের ব্যাপক ক্ষতি সাধন করবে বলেও হুমকী প্রদান করে দুর্বৃত্তরা। বানা কাটার এক সপ্তাহ পরেই বিষ প্রয়োগের ঘটনা ঘটানো হয়েছে। এ ব্যাপারে বাগমারা থানার ওসি মোস্তাক আহম্মেদ বলেন, বিলে বিষ দিয়ে মাছ মেরে ফেলার ঘটনায় এখনো কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।