এফএনএস : দামে বনিবনা না হওয়ায় অনেক বিদেশি তেল-গ্যাস কোম্পানি বাংলাদেশ থেকে চলে গেছে বলে জানিয়েছেন বাপেক্সের আন্তর্জাতিক কনসালটেন্ট এম ফরিদ উদ্দিন। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে ইকোনোমিক ডিপ্লোম্যাসি উইক অনুষ্ঠানের ‘ব্লু ইকোনোমি’ সেশনে তিনি একথা বলেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়ার কোম্পানিরা বাংলাদেশে আগ্রহ প্রকাশ করেছিল। কিন্তু দামে বনিবনা না হওয়ায় চলে গেছে। ২০১৪ সালে সমুদ্র থেকে আহৃত গ্যাস ক্রয়ের জন্য সরকারকে ছয় ডলারের প্রস্তাব দেয় আমেরিকান প্রতিষ্ঠান কনকোফিলিপস। এর বিপরীতে সরকার থেকে পাঁচ ডলারের প্রস্তাব দিলে ফেরত যায় কোম্পানিটি। বর্তমানে কাতার থেকে ১২ ডলারে এবং স্পট মার্কেট থেকে ৩৫ ডলারে এলএনজি আনা হচ্ছে। এ প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ২০১৪ সালে সিদ্ধান্ত নিতে পারিনি। যদি ওই সময়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতো তবে আজকে আমরা কম দামে হয়তো গ্যাস পেতাম। ২০১০ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত কনকোফিলিপস সমীক্ষা চালায় এবং অন্তত চারটি সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র খুঁজে পায়।

কূপ খননের জন্য যে বিনিয়োগ দরকার ছিল, সেটি তারা করতে আগ্রহী ছিল এবং শর্ত ছিল যে, যদি গ্যাস পাওয়া যায়, তাহলে সেই গ্যাস সরকারকে ছয় ডলার দরে কিনতে হবে। তবে তেল-গ্যাস কোম্পানিগুলোর সঙ্গে যে প্রোডাকশন শেয়ারিং এগ্রিমেন্ট করা হয়, সেটির সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। দামের বিষয়টি বিবেচনা করা হয়, সংশোধনীতে তা আনা হয়েছে বলে জানান। গভীর সুমদ্র সমীক্ষা ৭০ দশক থেকে বঙ্গোপসাগরে সমীক্ষা চালিয়ে আসছে সরকার এবং অন্যান্য কোম্পানি। এখন পর্যন্ত কুতুবদিয়া ও সাঙ্গুতে গ্যাস পাওয়া গেছে। সে সময় কুতুবদিয়াতেই গ্যাস পাওয়া গিয়েছিল। কিন্তু সেটি এখনও উত্তোলন করা হয়নি। এ ছাড়া ৮০ এর দশকে সাঙ্গুতে যে গ্যাস পাওয়া গিয়েছিল, সেটি উত্তোলনের পরে শেষ হয়ে গেছে। তিনি বলেন, গভীর সুমদ্রে অর্থাৎ ২০০ মিটারের বেশি পানি আছে এমন জায়গায় গ্যাস পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। বঙ্গোপসাগরে অনেকগুলো ব্লকে সমীক্ষা শেষ হয়েছে এবং সম্ভাবনা অনেক বেশি জানিয়ে তিনি বলেন, সমুদ্র থেকে সম্পদ আহরণের যে প্রযুক্তি এবং বিনিয়োগ দরকার; সেটি আমাদের নেই এবং এজন্য বিদেশি কোম্পানিগুলোকে আমাদের প্রয়োজন।