চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি : চায়ের দোকানে উঠাবাসার সুবাদে পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। এই সম্পর্কের কথা জানতে পারে স্বামী। এনিয়ে স্ত্রীকে মারধর ও পরকীয়া প্রেমিককে হুমকি দেয় চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার পার্বতীপুর ইউনিয়নের এনায়েতপুর গ্রামের রুস্তম আলীর ছেলে নজরুল ইসলাম (৬০)। পরে গত মঙ্গলবার (১০ মে) মধ্যরাতে পরকীয়া প্রেমিককে সাথে নিয়ে পূর্ব পরিকল্পনা করে স্বামী নজরুলকে শ্বাসরোধে হত্যা করে স্ত্রী লালবানু।

হত্যাকান্ডের ১৮ ঘন্টার মধ্যেই হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি পুলিশ)। গতকাল শুক্রবার দুপুরে পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য নিশ্চিত করে জেলা পুলিশ। নিহত নজরুল ইসলাম পেশায় কসাই ছিলেন। কসাই নজরুল ইসলামের তৃতীয় স্ত্রী লালবানু ছাড়াও তার প্রেমিক শাকিরকে আটক করেছে ডিবি পুলিশ। এছাড়াও পরকীয়া প্রেমে ব্যবহৃত মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।
এর আগে গত বুধবার (১১ মে) সকালে গোমস্তাপুর উপজেলার পার্বতীপুর ইউনিয়নের রহনপুর-আড্ডা সড়কের নজরপুর নামক স্থানে রাস্তার পাশ থেকে কসাই নজরুলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নজরুল ইসলামের বাড়ি থেকে প্রায় ৫-৭শ গজ দুরে একই এলাকায় রাস্তার পাশে তার লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয় স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে। নিহত নজরুল কসাইয়ের তিনটি স্ত্রী রয়েছে বলে জানা যায়। প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে পুলিশ জানায়, হত্যাকান্ডের পর পুলিশ সুপার এএইচএম আবদুর রকিব নির্দেশনায় তদন্ত শুরু করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল। লাশের পাশে থাকা একটি প্লাস্টিকের দড়ির সূত্র ধরে নিহতের তৃতীয় স্ত্রী লালবানুকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গোমস্তাপুর সার্কেলের নেতৃত্বে লালবানুকে জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার বিস্তারিত তথ্য জানা যায়।

পুলিশ জানায়, লালবানুর বাড়িতে চায়ের স্টল থাকার সুবাদে বাড়ির পাশে থাকা ইটভাটার ম্যানেজার শাকিরের সাথে পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। গত মার্চ মাসে শাকির এনায়েতপুর বাজার থেকে লালবানুকে নিজ নামে রেজিষ্ট্রেশনকৃত একটি নতুন সিম কার্ড ও মোবাইল কিনে দেয়। এভাবেই গোপনে চলতে থাকে লালবানু ও শাকিরের পরকীয়া প্রেম। কিছুদিন আগে নিহত কসাই নজরুল ইসলাম বিষয়টি জানতে পারলে তার স্ত্রীকে মারধর করে এবং প্রেমিক শাকিরকে গালিগালাজ করে। প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে পুলিশ সুপার এএইচএম আব্দুর রকিব আরও জানান, এ ঘটনায় শাকির ক্ষোভে নজরুলকে রাস্তা থেকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করে।

নজরুলকে মারতে তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী ঘটনার দিন রাতে স্ত্রী লালবানু ও প্রেমিক শাকির রাত ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে বালিশের উপরে দেওয়া কাঁথা দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানায়, হত্যার সময় নজরুলের দুই পা চেপে ধরে তার লালবানু এবং গলা চেপে ধরে মৃত্যু নিশ্চত করে প্রেমিক শাকির। হত্যার ঘটনার মোড় অন্যদিকে ধাবিত করতে লালবানু ও শাকির নিহতের মরদেহ কাঁধে করে বাড়ি থেকে সামান্য দূরে রাস্তার পাশে রেখে আসে। লালবানুর স্বীকারোক্তিতে প্রেমিক শাকিরকে আটক করে ডিবি পুলিশ।