তানোর প্রতিনিধি : রাজশাহীর তানোরে ওপেন মার্কেট সেল (ওএমএস) কর্মসুচির তানোর পৌরসভার ডিলার আলফাজ আলী শাহ্’র বিরুদ্ধে বরাদ্দের চাল কালোবাজারে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগ সভাপতি ও বুরুজ দক্ষিনপাড়া গ্রামের আজাহার আলীর পুত্র আলফাজ আলী শাহ্। সুত্র জানায়, গতকাল শুক্রবার জুম্মা নামাজের সময় ডিলার আলফাজ বস্তা পরিবর্তন করে ওএমএস’র ১৬ বস্তা চাউল প্রতিবেশী মৃত লহর শাহ্’র পুত্র শহিদুল ইসলামের বাড়িতে পাচার করে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এসময় গোপণ সংবাদের ভিত্তিত্বে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পঙ্কজ চন্দ্র দেবনাথ পৌরসভার বুরুজ গ্রামে অভিযান চালিয়ে শহিদুল ইসলামের বাড়িতে ১৬ বস্তা চাল জব্দ করেন। ডিলার আলফাজের কাছে থেকে শহিদুল এসব চাল কেনার কথা শিকার করেছে। এদিকে এখবর ছড়িয়ে পড়লে ডিলারের লাইসেন্স বাতিল, তাকে গ্রেফতার ও শাস্তির দাবিতে নাগরিকগণ বিক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। জানা গেছে, উপজেলার দুটি পৌরসভায় ৬ জন ওএমএস ডিলার নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

সরকারী ছুটির দিন ব্যতিত প্রতিদিন একজন ডিলার দেড় মেট্রিকটন চাউল ও এক মেট্রিক টন আটা উত্তোলন এবং চাউল প্রতি কেজি ৩০ টাকা ও আটা প্রতি কেজি ২০ টাকা দরে বিক্রি করবেন। এক জন ব্যক্তি সর্বোচ্চ ৫ কেজি করে চাল-আটা কিনতে পারবেন, সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বিক্রয় কেন্দ্র খোলা থাকবে। গত ২৫ জুলাই থেকে ওএমএস কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ডিলারেরা নানা কৌশলে চাল-আটা বিক্রিতে সময় ক্ষেপন করে ৫টা বাজার সঙ্গে সঙ্গে বিক্রয় কেন্দ্র বন্ধ করে দিয়ে অবিক্রিত চাল-আটা উচ্চ মুনাফায় কালো বাজারে বিক্রি করে দিচ্ছে।

প্রতিটা বিক্রয় কেন্দ্রে সার্বক্ষনিক এক ট্যাগ কর্মকর্তা থাকার কথা থাকলেও সেটা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে না। একজন ডিলারের কাছে থেকে ২০০ জন মানুষ এক সঙ্গে ৫ কেজি আটা ও ৫ কেজি চাল কিনতে পারবেন এবং ১০০ জন মানুষ শুধুমাত্র ৫ কেজি করে চাল কিনতে পারবেন। কিন্ত্ত অধিকাংশ ডিলার নানা কৌশলে সময় ক্ষেপণ করে গ্রাহকদের ফিরিয়ে দিয়ে অবিক্রিত চাল-আটা কালোবাজারে বিক্রি করে দিচ্ছেন বলে অভিযোগ উপকারভোগীদের।

এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পঙ্কজ চন্দ্র দেবনাথ বলেন, গোপণ সংবাদের ভিত্তিত্বে অভিযান চালিয়ে এসব চাল জব্দ করা হয়েছে। তিনি বলেন, তদন্ত করে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। এবিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা খাদ্যনিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা (টিসিএফ) বলেন, তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে ডিলারের লাইসন্স বাতিলসহ শাস্তিমুলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এবিষয়ে জানতে চাইলে ডিলার আলফাজ আলী শাহ্ বলেন, তিনি বোনের বাড়ি আছেন, পরে সাক্ষাতে কথা হবে।