আর কে রতন : দীর্ঘদিন থেকে বিনাপারিশ্রমিকে সেচ্ছায় ট্রাফিক সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করেছেন আলমাস (২৫) নামের এক যুবক। মোহনপুর উপজেলার ভীমনগর গ্রামের সমতুল্লা তিনি বেশ কয়েক বছর ধরে বিনা পারিশ্রমিকে নিয়ন্ত্রন করছেন রাজশাহী-নওগাঁ মহাসড়কের চলাচল অসংখ্য ছোট বড় যানবাহন। অনেক ব্যস্ততম মোহনপুর উপজেলা পরিষদের গেট সংলগ্ন মহাসড়কের পূর্বপ্রান্তে অবস্থিত মোহনপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ও বাকশিমইল মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শত শত ছাত্র ছাত্রীদের সকাল ৭ টা হতে সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত বিরামবিহীন একনিষ্ঠা ভাবে আলমাস সেচ্ছায় ট্রাফিক সেবা প্রদান করে চলেছে। নিজের এবং পরিবারের কথা চিন্তা না করে যানজট নিরসনে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। প্রথম দিকে তার কাজ মানুষের হাসির পাত্র হলেও বর্তমানে অনেক মানুষ আলমাসের সেবায় খুশি।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ব্যাটারি চালিত গাড়ির সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় এবং রাজশাহী নওগাঁ মহাসড়ক প্রসশ্ত করণ হওয়ায়, স্কুল কলেজগ্রামী ছেলে মেয়েদের রাস্তা পারাপারের চরম ঝুকিঁ মধ্যে পড়তে হতো। প্রতিনিয়তই যানজট লেগেই থাকে। এ অবস্থায় ছোট বাচ্চারা যাতে ভাল ভাবে বাড়িতে ফিরতে পারেন সর্বদা সেই চেষ্টাই করে যাচ্ছেন এই সেচ্ছাসেবী ট্রাফিক। দীর্ঘ সময় সেচ্ছায় কাজ করে যাওয়া এই সেচ্ছাসেবী ট্রাফিক আলমাস বলেন, আমি প্রতিদিন সকাল ৭ টা থেকে বিকাল ৫-৬ টা পর্যন্ত এখানে কাজ করি। বিনা পয়সায় সেচ্ছাসেবী ট্রাফিকের কাজ করে থাকি। বিনিময়ে তেমন কোন অর্থ পাই না। তবে ঈদে ইউএনও স্যার সহ অনেকে আমার কাজে খুশি হয়ে বোনাস দিয়েছে। তবে আমাকে যদি মাসিক ভাবে কেউ সাহায্য করে তবে আমি খেয়ে পড়ে বেঁচে থাকতে পারি।

অটোরিক্সা চালক সুমন মহন্ত বলেন, দীর্ঘদীন ধরে আমি তাকে চিনি। প্রতিদিন সকাল হতে সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রখর রোদ্রে রাস্তায় দাড়িয়ে ট্রাফিক সেবা দিয়ে চলেছে। এতে অনেক মানুষের উপকার হয়। বিশেষ করে ছোট বাচ্চাদের দূর্ঘটনার হাত থেকে সে রক্ষা করেন। তার সাথে সুর মিলিয়ে মাইক্রোবাস মালিক মনির হোসেন জানান, কিছু গাড়ী মালিক চালক তাকে সহায়তা করে থাকে। কিন্তু আমাদের সহায়তায় তো তার পেট বাচবে না। তাই সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা প্রয়োজন ।

এ ব্যাপারে বাকশিমইল মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শহীদুল আলম জানান, ছেলেটি আমার স্কুল গেটের সামনে প্রতিদিন ছোট ছোট বাচ্চাদের রাস্তা পারাপার করেন বিষয়টি আমার দৃষ্টি গোচর হয়েছে। সে নিশ্চয় ভাল কাজ করে। আমার পক্ষ হতে মাঝে মধ্যে আমার ব্যাক্তিগত পক্ষ হতে তাকে সহযোগিতা করে থাকি। ৫ নং বাকশিমইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুল মান্নান বলেন, সেচ্ছাসেবী ট্রাফিক হিসেবে কাজ করছেন সেই তথ্য আমি লোকমুখে জানতে পারার পর ঐ সেচ্ছাসেবী ট্রাফিকের ইউনিফর্ম তৈরীর জন্য টাকা দিয়ে টেইলার্স পাঠিয়েছি এবং ঈদে তাকে সহযোগিতা করেছি। পরবর্তীতে তাকে সর্বাত্নক সহায়তার করার চেষ্টা করবো।