নওগাঁ প্রতিনিধি : নওগাঁয় অপহরণের পর পুলিশ সুপারের মোবাইলে মেসেজ পেয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থী এক কিশোরীকে উদ্ধার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখার ডিবি সদস্যরা। ওই কিশোরীর বাড়ি জেলার মহাদেবপুর উপজেলার সফাপুর ইউনিয়নেঅ। এসময় ওই কিশোরীকে উদ্ধারের পর অভিযুক্ত মাহমুদুল হাসান রকিকে আটক করতে না পারলেও তারা বাবা-মাকে আটক করেছে ডিবি পুলিশ। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে জেলা ডিবির কার্যালয়ে সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গাজিউর রহহামন এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও জানান, ওই কিশোরীকে উদ্ধারের পর জিঞ্জাসাবাদে জানা যায় তার এক বান্ধবীর মাধ্যমে অভিযুক্ত রকির সাথে পরিচয় হয় তার। তারপর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্কে গড়ে উঠে। সম্পর্কের এক পর্যায়ে রকি বিভিন্ন ছেলেকে ডেকে এনে জিম্মি করতে বললে ওই কিশোরী রাজি হয় না। ফলে তাদের সম্পর্কের মধ্যে দুরত্বসৃষ্টি হয়। এরই এক পর্যায়ে চলতি মাসের ৩ অক্টোবর বিকেলে মেস থেকে বাড়ি যাবার উদ্দেশ্যে বের হলে জেলার মহাদেবপুর উপজেলার কদমতলী এলাকা থেকে রকি ওই কিশোরীকে অপহরণ সদর উপজেলার গাংজোয়ার তার নিজ বাড়ি নিয়ে যায়।

এরপর তাকে মেরেফেলাসহ বিভিন্ন ভয়ভিতি দেখিয়ে বাড়িতে রেখে ৯ দিন ধরে একাধিকবার ধর্ষন এবং শারীরিক নির্যাতন চালায়। এরই এক পর্যায়ে গতকাল সোমবার রাতে ওই কিশোরী অপহরণকারী রকির মোবাইল থেকে পুলিশ সুপারের মোবাইল মেসেজ করে তাকে উদ্ধারের কথা জানান। এরপর পুলিশ সুপার আবদুল মান্নান মিয়ার সার্বিক দিক নির্দেশনায় রাতেই ওই কিশোরীকে উদ্ধার করে ডিবি পুলিশ। এসময় অপহরণকারী রকি পালিয়ে যায়। তবে রকির বাবা মোজাম্মেল হক এবং মা তাছলিমা বেগমকে আটক করা হয়। আটকের পর মহাদেবপুর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা রুজু প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে ডিবির ওসি একেএম শামসুদ্দিনসহ পুলিশের অন্যান্য কর্মকর্তরা উপস্থিত ছিলেন।