চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি : নিজেদের পরিবার ও অভিভাবকদের জমির দখল ফিরিয়ে না পেলে ২৩টি পরিবারের সদস্যরা চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে আমরন অনশন করার হুমকি দিয়েছে। উচ্চ আদালতের রায় হওয়ার পরেও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ও ক্ষমতাসীন দলের কিছু নেতাকর্মীদের ছত্রছায়ায় টাকার বিনিময়ে বসতি স্থাপন করার বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ও জমির দখল ফিরিয়ে নেয়ার দাবিতে এমন হুমকি দেয় জমির প্রকৃত মালিক ও তাদের উত্তরাধিকারীরা। জেলা শহরের নবাবগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজের সামনের ১.৬৫ শতাংশ জমির মালিক ও তাদের উত্তরাধিকারীদের আয়োজনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

জোরপূর্বক অন্যের জমিতে অবৈধভাবে বাড়িসহ নানা স্থাপনা নির্মাণ ও দখলের প্রতিবাদে সোমবার (১১ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, জেলা শহরের নবাবগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজের সামনের চরজোতপ্রতাপ মৌজার আর. এস. ৩০২ এর জেল নম্বর- ১১৬ জমির প্রকৃত মালিকের কেউই ভোগদখলে নেই। ১.৬৫ শতাংশের ৩০ কোটি টাকার জমিটি বর্তমানে ৪০টি পরিবার অবৈধভাবে দখল করেছে। জমি দখল করে বসতি স্থাপন করা হয়েছে। এমনকি এই এলাকাটি মাদক ও সন্ত্রাসীদের আস্থানায় পরিনত হয়েছে। বক্তারা আরও বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা, তাদের সন্তান ও পরিবারবর্গ এবং জমির প্রকৃত মালিক নিয়মিত সরকারকে জমির কর প্রদান করছে।

কিন্তু বর্তমানে জমিটির দখল নিয়েছে স্থানীয় সন্ত্রাসীরা। এবিষয়ে প্রশাসন ও পুলিশের নিকট ঘুরেও কোন সমাধান পায়নি। এমনকি নেসকোর কাছে অবৈধ দখলদারদের বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে দেয়ার দাবি করছি। বর্তমানে নিজেরা প্রকৃত মালিক হলেও জমির দখল নিতে গেলে বিভিন্ন হুমকিতে হুমকি দিচ্ছেন অবৈধ দখলকারীরা। জমির অন্যতম মালিক ডা. শফিকুল ইসলাম বলেন, আমার কেনা জমি দখল করে বসতিসহ জেলা জাসদের কার্যালয় তৈরি করা হয়েছে। এনিয়ে প্রশাসনের কাছে বারবার বলেও কোন সুরাহা পায়নি। এটা অত্যান্ত দুঃখজনক ও অবিচার আমাদের প্রতি। একটি দলীয় কার্যালয়ও করা হয়েছে অন্যের জমি দখল করে। মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন, জমির অন্যতম প্রকৃত মালিক বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রয়াত জহরুল ইসলামের ছেলে এস.এম. আমিনুল ইসলাম জনি, ডা. শফিকুল ইসলাম, ফিরোজ আহমেদ, আব্দুল মোতালেবসহ জমির মালিক ও উত্তরাধিকারীরা।