স্টাফ রিপোর্টার : ‘আমি কর্মজীবী নারী। আমার দুই সন্তান নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে আছি। আমাদের সহায়তা করুন। আমাদের বাড়ি থেকে বের করে দেয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।’ রাজশাহী সোনালী ব্যাংক গ্রেটার রোড শাখার সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার তাসমীন এহসান গতকাল রোবাবার দুপুরে মানবাধিকার সংগঠন পরিবর্তন কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই আকুতি জানান। তার স্বামী বর্তমানে অগ্রনী ব্যাংক আগ্রাবাদ সার্কেল চট্টগ্রাম শাখার সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার এসএম মশিউর রহমানের নির্যাতনের শিকার এই নারী জানান, তার স্বামী গত ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২০ বিশ লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে আমাকে বেদম মারপিট করে।

কাপড় আইরন করা ইসতিরি দিয়ে আমার হাত পুড়িয়ে দেন। দুই দিন রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওসিসি ওয়ার্ডে চিকিৎসা গ্রহণ করি। সেখান থেকে ছাড়া পেয়ে তিনি স্বামীর বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১১(গ) ধারায় মামলা দায়ের করেন। এরপর থেকে তার স্বামী তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি ধামকি দিচ্ছে। তার নগরীর তেরখাদিয়া এলাকায় যে বাড়িতে বসবাস করেন সেখানে নানাভাবে হয়রানি করছে। বাড়ি বিক্রি করে দেয়া হবে বলে লোক পাঠাচ্ছে। সে এক সেনা কর্মকর্তার সাবেক স্ত্রীকে বিয়ে করেছেন। তাকে তালাক দেয়ার আগেই সে এই বিয়ে করেন। তার নারী ঘটিত কেলেংকারির বিষয়টি অনেকবার ঘটেছে। তার অনেক নারী বন্ধু ছিল।

তাদের সাথে তার শারিরিক সম্পর্ক। এসব নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আমার পরিবারে অশান্তি ছিল। তার এক বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া মেয়ে এবং স্কুল পড়ুয়া ছেলে রয়েছে। তার স্বামী অগ্রনী ব্যাংক আগ্রাবাদ চট্টগ্রাম শাখার সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার এসএম মশিউর রহমানের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলার বিষয়ে তার কর্মস্থলে অবহিত করেছেন। এ বিষয়ে এখনো কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় নি। তিনি এবং তার দুই সন্তানের নিরাপত্তার জন্য দাবি জানান। একই সাথে আসামীর কর্মস্থল অগ্রনী ব্যাংক থেকে তাকে সাসপেন্ড করার দাবি জানান।

এ বিষয়ে এসএম মশিউর রহমান বলেন, তিনি চট্টগ্রামে থাকেন। গত ১৭ মার্চ তার তালাক কার্যকর হয়েছে। তার সন্তানেরা যেহেতু তার বাড়িতে রয়েছে সে কারনে তিনি কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেন নি। তিনি কোনো ধরনের হুমকি থামকি দেননি বলে জানান।