সকালবেলা রনির দুইশ টাকার ফ্লেক্সিলোড ভুল নাম্বারে চলে গেল। ফোনের অবশিষ্ট আট টাকা ২০ পয়সা দিয়ে কল দিলো টাকাটা ফেরত পাওয়ার জন্য। ফোন রিসিভ করল একজন সুকণ্ঠী নারী। রনির মনে হলো, দুইশ টাকার কষ্ট তখন লাখ টাকার লাভে পরিণত হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

তাদের ফোনালাপ ছিল এমন-
রনি: হাই।
মেয়ে: হ্যালো।
রনি: ভুলে চলে যাওয়া টাকাটা কি ফেরত পাওয়া যাবে?
মেয়ে: ভুলে চলে যাওয়া জিনিসটা ভুলে গেলেই ভালো, তাই না?
রনি: ভাবছিলাম ভুলেই যাবো, নিয়তি আপনার কাছেই নিয়ে যাবে, জানা ছিল না।
মেয়ে: (মৃদু হাসি) যদি ফেরত না দেই?
রনি: তবে আপনাকে ঋণী রাখবো না। প্রতিদিন হাসি শোনানোর পরিবর্তে সুদটা মওকুফ করা যাবে!
মেয়ে: হাসির বিনিময়ে পুরো আসলটা মাফ করা যায় না?
রনি: যদি হাসিটা চোখে দেখতে পেতাম, তবে না হয় আর্জি বিবেচনায় রাখতাম।
মেয়ে: দুইশ টাকার বিনিময়ে চাওয়াটা বেশি হয়ে যাচ্ছে না?
রনি: একটু আগে দুইশ টাকা ছিল, হাসিটা শোনার পর থেকে ওটা লাখ টাকা পার হলো বলে।
মেয়ে: (হাসি) উফ, আপনি পারেনও বটে! বড্ড ফাজিল তো আপনি!
রনি: মনে হচ্ছে আপনি ব্যস্ত, পরে কথা বলার জন্য আমার ফোন মেমরি খরচ করে নাম্বারটা সেভ করে রাখবো। যদি অনুমতি দেন আর কি!
মেয়ে: ও হো, আচ্ছা আমি আসলেই একটু ব্যস্ত। বাচ্চা দুইটা কাঁদছে! নেন আমার স্বামীর সাথে কথা বলেন। দুইশ টাকার ডিলটা সে-ই ক্লিয়ার করুক!

এরপর এক মধ্যবয়স্ক লোকের ঝাঁঝালো কণ্ঠে ভেঙে গেল রনির মনটা! দুইশ টাকার সঙ্গে আট টাকা ২০ পয়সা গচ্ছা যাওয়ার পর ফাঁকা চোখে আকাশের দিকে তাকালো। আহ! সব ফাঁকা ফাঁকা লাগছে!