স্টাফ রিপোর্টার : ভাড়াটিয়াকে ধর্ষণের অভিযোগে রাজশাহী নগরীর গৌরহাঙ্গা এলাকার চান শপিং কমপ্লেক্সের মালিক অতি পরিচিত ব্যবসায়ী চাঁন মিয়াকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধর্ষিতা নারী বাঘা উপজেলার আড়ানী পৌর এলাকার এক ব্যক্তির স্ত্রী। ছেলের লিখাপড়ার সুবিধার্থে তিনি দীর্ঘ সময় ধরে অভিযুক্ত চাঁন মিয়ার গৌরহাঙ্গাস্থ পঞ্চমতলা বিশিষ্ট একটি বাড়ির দ্বিতীয় তলার ভাড়াটিয়া হিসাবে ছিলেন। ধর্ষিতা ঐ নারী তার ছেলেকে নিয়ে বসবাস করতেন বাড়িটিতে। ধর্ষিতা বাদী হয়ে গত ৩/৪/২০২১ ইং তারিখে চাঁন মিয়ার নামে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ এর ৯(১) ধারাতে একটি মামলা দায়ের করেন। যার বোয়ালিয়া থানার মামলা নং-০৮। মামলা দায়েরের ভিত্তিতে বোয়ালিয়া থানা পুলিশ অভিযুক্ত চাঁন মিয়াকে গ্রেফতার করে জেলহাজতে প্রেরণ করেন।

থানার এজাহার ও স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য মতে, চাঁন মিয়া প্রায় পাঁচ-ছয় বছর ধরে বাদীর ভাড়াবাসাতে আসা-যাওয়া করতেন। চাঁন মিয়া নিজের গরজেই বাজারঘাট থেকে শুরু করে ওই নারীর বাড়ীর প্রায় সকল কাজ সম্পন্ন করে দিতেন। যার কারণে বাদীর সাথে একসময় তার গভীর সম্পর্ক তৈরি হয়। ওই নারীকে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ধরনের প্রলোভন দেখিয়ে তিনি বিয়ে করার আশ^াস দেন। এছাড়াও বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ধরনের তালবাহানা করেও তিনি বাদীর সাথে অনৈতিক শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলেন এবং পরবর্তীতে শারীরিক সম্পর্কের ভিডিও ধারণ করে তিনি দিনের পর দিন ঐ নারীকে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ।

বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে বিয়ে না করা এবং তৎসাথে গোপনে ভিডিও করার বিষয়টি একসময় মাত্রাতিরিক্ত ব্ল্যাকমেইলিং অবস্থায় পৌছালে ধর্ষিতা নারী অবশেষে আইনের আশ্রয় নেন। অভিযোগ আছে মোটা অংকের অর্থ দিয়ে বিষয়টির রফাদফা করার অপচেষ্টা করেও ব্যর্থ হন অভিযুক্ত চাঁন মিয়া। যার কারণে, গত ৩/৪/২০২১ ইং তারিখে চাঁন মিয়ার নামে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ এর ৯(১) ধারাতে ওই নারী একটি মামলা দায়ের করেন। ধর্ষণের মামলা হওয়ার সত্যতা স্বীকার করেন বোয়ালিয়া থানার অফিসার্স ইনচার্জ নিবারণ চন্দ্র বর্মণ। এদিকে পাশের ফ্ল্যাটের এক ভাড়াটিয়া জানান,গ্রেফতারের পরের দিন চাঁন মিয়ার স্ত্রী চলে যান শহরের বাইরে অন্যত্র।

বিষয়টি সম্পর্কে আরো বিস্তারিত জানার জন্য নগরীর গৌরহাঙ্গা এলাকায় গেলে স্থানীয়রা গ্রেফতারকৃত চাঁন মিয়া সম্পর্কে আরো বলেন, চাঁন মিয়ার বিরুদ্ধে রয়েছে বিল্ডিং কোড অমান্য করে বহুতল ভবন নির্মাণেরও একাধিক অভিযোগ। তিনি গৌরহাঙ্গায় নির্মাণ করেছেন ছয়টি বাড়ী। এছাড়াও শালবাগান ও সপুরা এলাকাতেও আছে মোট চারটি বাড়ী। প্রতিটি বাড়ী তিনি নির্মাণ করার সময় এক ইঞ্চি জায়গাও ছাড়েননি। যার কারণে, উক্ত এলাকাগুলোতে তার প্রতি অনেকেই অসন্তুষ্ট। তার এক ছেলে থাকেন লন্ডনে। আর অন্য ছেলে তার স্ত্রী নিয়ে থাকেন চাঁন শপিং কমপ্লেক্সের একটি ফ্ল্যাটে।