স্টঅফ রিপোর্টার : রাজশাহী মহানগরের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের যাচাই-বাছাই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) ও বেসামরিক গেজেট যাচাই-বাছাই নির্দেশিকা-২০২০ অনুসারে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। মহানগরীতে মোট ১৬০টি আবেদনের মধ্যে ১১০ জনের আবেদন নামঞ্জুর করেছেন চার সদস্য বিশিষ্ট রাজশাহী মহানগর বীর মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কমিটি। বাতিল হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতা এবং সাবেক জনপ্রতিনিধিও রয়েছেন। কমিটির সদস্যরা প্রতিবেদনে গেজেট নিয়মিত করার জন্য ৩৮ জন বীর মুক্তিযোদ্ধার নামের তালিকা জামুকায় সুপারিশ করেছেন। এছাড়াও আট জন আবেদনকারীর ব্যাপারে কোনও সিদ্ধান্তে আসতে পারেননি তারা।

আর চার জন মুক্তিযোদ্ধার তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের জন্য জামুকা বরাবর পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই তালিকা গত বুধবার রাজশাহী জেলা প্রশাসনের ওয়েবসাইটেও দেওয়া হয়েছে। মোট ১৬০ জনের ব্যাপারে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের যাচাই-বাছাই কমিটি ১৬ ফেব্রুয়ারি সুপারিশসহ প্রতিবেদন জামুকায় পাঠিয়েছে। গত ৬ থেকে ১০ ফেব্রুয়ারি রাজশাহীতে এই যাচাই-বাছাই কাজ করা হয়। চার সদস্যের মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কমিটির সভাপতি ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা সফিকুর রহমান রাজা। আর সদস্য সচিব ছিলেন রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মুহাম্মদ শরিফুল হক। অন্য দুই সদস্য হলেন রাজশাহীর বীর মুক্তিযোদ্ধা মীর ইকবাল এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা চৌধুরী এস মনিরুল ইসলাম।

যাচাই-বাছাই কমিটির সদস্য সচিব মুহাম্মদ শরিফুল হক জানান, মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গেজেটভুক্তির জন্য ৩৩ ধরনের প্রমাণ প্রয়োজন। এর মধ্যে জামুকার সুপারিশও প্রয়োজন। কিন্তু রাজশাহী মহানগরীর ৫৫২ জন ভাতাভোগীর মধ্যে ১৬০ জনের ব্যাপারে জামুকার সুপারিশ ছিল না। এ কারণে তাদের ব্যাপারে যাচাই-বাছাই করতে বলা হয়। জামুকার নির্দেশনা অনুযায়ী যাচাই-বাছাই করে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে। এদিকে, সরাসরি নামঞ্জুর হওয়া ১১০ জনের মধ্যে ৮৪ জন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তাদের গেজেটে নিয়মিত করার জন্য আবেদন করেছিলেন। বাকি ২৬ জন আবেদনই করেননি। এমনকি যাচাই-বাছাই কমিটির সামনে তারা হাজিরও হননি। প্রতিবেদনের মন্তব্যের কলামে এ বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। আর ৮৪ জনের আবেদন যাচাই শেষে নামঞ্জুর করা হয়েছে বলে মন্তব্যের কলামে উল্লেখ করা হয়েছে।

আবেদন না মঞ্জুর হওয়াদের মধ্যে শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূর কুতুব আলম মান্নানের নামও আছে। ওই তালিকায় তার ক্রমিক নম্বর-৮৫। আবেদন বাতিলের তালিকায় আরও আছেন বিএনপির প্রভাবশালী নেতা কামরুল মনির, এরশাদ আলী ঈশা, নূর মোহাম্মদ পেনু, অ্যাডভোকেট অঙ্কুর সেন, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক ভারপ্রাপ্ত মেয়র রেজাউন নবী দুদু প্রমুখ। আবেদন নামঞ্জুর হওয়ার ব্যাপারে জানতে চাইলে জাতীয় শ্রমিক লীগ সভাপতি নূর কুতুব আলম মান্নান বলেন, এতদিন পর বাতিল হয়ে গেলে কী করবো। আমি তো মুক্তিযুদ্ধের সময় অনেক কাজ করেছি।

২০০৬ সালের দিকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গেজেটভুক্ত হয়েছি। তখন থেকেই নিয়মিত ভাতা পাচ্ছি। যাচাই-বাছাইকালে মহানগরীর যে আট জনের ব্যাপারে দ্বিধাবিভক্ত সিদ্ধান্ত পাওয়া গেছে তারা হলেন- মৃত নজিবর রহমান, মৃত হিসাব উদ্দীন আহমেদ, রুহুল আমিন প্রামাণিক, বদরুল আলম, আবদুল আজীজ, মজিবুর রহমান, মৃত মোয়াজ্জেম হোসেন এবং সারওয়ার ই-কামাল স্বপন। যাচাই-বাছাই কমিটির সদস্য সচিব ও রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মুহাম্মদ শরিফুল হক গত বুধবার রাতে বলেন, আমি মূলত এখানে সচিবের দায়িত্ব পালন করেছি।

নির্বাচিত মুক্তিযোদ্ধারাই এই বিষয়টি যাচাই-বাছাই করেছেন। আপনারা সবাই তাদের চেনেন এবং জানেন। যাচাই-বাছাই শেষে গত ১৬ ফেব্রুয়ারি প্রতিবেদন জামুকায় পাঠানো হয়েছে। তাদের দায়িত্ব ছিল যাচাই-বাছাই করে এই তালিকা পাঠানো। এখন তাদের ভাতা পাওয়া বা না পাওয়া অথবা অন্য যে কোনও সিদ্ধান্ত জামুকা এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় গ্রহণ করবে। তাদের কাছে যেরকম নির্দেশনা আসবে তারা সেই রকমই পদক্ষেপ নেবেন।