স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহী গণপূর্ত বিভাগ-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী ফেরদৌস শাহনেওয়াজ কান্তার বিরুদ্ধে এক পাম্প চালককে সুপরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। যার প্রেক্ষিতে মৃত ব্যক্তির স্ত্রী সঞ্চিতা হক গত ১০ জানুয়ারী ২০২১ইং তারিখে জেলা রাজশাহীর বিজ্ঞ সিএমএম রাজপাড়া আমলী আদালতে দন্ডবিধির ৩০২ ধারাতে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার বাদী সঞ্চিতা হকের মৃত স্বামী গণপূর্ত বিভাগ-০১ এর পাম্প চালক ছিলেন। মামলার কপি ও বাদীর বক্তব্যানুযায়ী, আসামী তার স্বামীকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে কৌশল অবলম্বনে হত্যা করেছেন।

এ ব্যাপারে রাজপাড়া থানার ওসি মাজহার বলেন, আদালতে দায়েরকৃত হত্যা মামলা থানায় তদন্তের জন্য প্রেরণ করা হয়েছে। পূর্বের ইউডি মামলা ও বাদী সঞ্চিতা হকের আদালতে দায়েরকৃত হত্যার অভিযোগে মামলা তদন্তাধীন রয়েছে। এ ব্যাপারে গতকাল শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে নির্বাহী প্রকৌশলী ফেরদৌস শাহনেওয়াজ কান্তার মোবাইল ফোনে কয়েকবার কল দেওয়া হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়। জানা গেছে ফেরদৌস শাহনেওয়াজ কান্তা বর্তমানে রাজশাহী গণপূর্ত বিভাগের জোন অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলীর দায়িত্ব পালন করছেন।

মামলার নথির তথ্যানুযায়ী মৃত্যুর ঘটনা সম্পর্কে জানা যায়, আসামী কান্তার সাথে হত্যার স্বীকার হওয়া পাম্প চালক রবিউল হকের মধ্যে একটি গুরুতর বিষয় নিয়ে রেশারেশি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মতো ঘটনা চলমান ছিল। যার প্রেক্ষিতে গত ১৮-৯-২০২০ ইং তারিখে আনুমানিক ১০:৫০ ঘটিকার সময় অভিযুক্ত প্রকৌশলী মৃত পাম্প চালক রবিউল হককে মোবাইলে ফোন করে তাঁর বাড়ীতে আসতে বলেন। রবিউল মামলার ১ নং স্বাক্ষী মিলনকে নিয়ে প্রকৌশলী কান্তার বাড়ীতে যায়। প্রকৌশলীর বাড়ীর সিসি ক্যামেরার তার (ক্যাবল) নষ্ট হয়েছে কিনা সেটি দেখার জন্য রবিউল হককে অভিযুক্ত প্রকৌশলী কান্তা দেখার জন্য বলেন। আসামীর বাসায় থাকা একটি স্টিলের মই দিয়ে উপরে উঠে বৈদ্যুতিক তারে হাত দেওয়া মাত্রই বৈদ্যুতিক শকট খেয়ে রবিউল হক ছিটকে নিচে পড়ে যায়। বৈদ্যুতিক তারে পিষ্ট হয়ে রবিউলের ডান হাতের তালুতে ক্ষতের সৃষ্টি হয়।

রবিউলের অবস্থা বেগতিক দেখে অভিযুক্ত প্রকৌশলী ফেরদৌস শেহনেওয়াজ কান্তা ঘনটাস্থল থেকে পালিয়ে গিয়ে সার্কিট হাউজে আশ্রয় নেন। রবিউলের সাথে প্রকৌশলীর বাড়ীতে যাওয়া ১নং স্বাক্ষী মিলন প্রাথমিক চিকিৎসা হিসেবে সরিষার তেল দিয়ে গুরুতর আহত রবিউলর শরীরে মালিশ করতে থাকে। এবং মিলন আহত রবিউলের স্ত্রীকে রাত্রি আনুমানিক ১১:০৫ মিনিটে বিষয়টি মোবাইল ফোনে অবগত করেন। বাদী সময় বিলম্ব না করে কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে প্রকৌশলীর বাড়ীতে হাজির হন এবং আহত স্বামীকে নিয়ে অটোরিক্সাযোগে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক রবিউলকে মৃত ঘোষণা করেন।

আসামী বিষয়টি ধামাচাঁপা দেবার জন্য মৃত রবিউলের স্ত্রীকে ক্ষতিপূরণ বাবদ বিশ লাখ টাকা ও তাদের মেয়েকে একটি চাকুরি দেবার প্রলোভন দেখান। কিন্তু, আসামীপক্ষ আপোষের কথা বলেও অবশেষে বিষয়টির আপোষ না করাতে ভুক্তভোগী পরিবার ও স্বামীহারা স্ত্রী সঞ্চিতা অবশেষে বাদী হয়ে জেলা রাজশাহীর বিজ্ঞ সিএমএম রাজপাড়া আমলী আদালতে দন্ডবিধির ৩০২ ধারাতে একটি মামলা দায়ের করেন। বাদী অভিযোগ করে আরো বলেন, গত ০৫-০১-২০২১ ইং তারিখে রাজপাড়া থানাতে মামলা করতে গেলে রাজপাড়া থানা কর্তৃপক্ষ আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেন। ইউডি কেসের বিষয় সম্পর্কে বাদী জানতে গেলে থানা কর্তৃপক্ষ সে বিষয়ে কোন সদ-উত্তর দেয়নি বলেও অভিযোগে প্রকাশ।

বাদী সঞ্চিতা হক পত্রিকার প্রতিনিধিকে বলেন, আমার স্বামীকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। অত্যন্ত নিখুত কৌশল অবলম্বন করে মামলার আসামী প্রকৌশলী ফেরদৌস শেহনেওয়াজ কান্তা আমার স্বামীকে হত্যা করেছে। হত্যার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, আসামীর ব্যক্তিগত জীবনের একটি বিষয় আমার স্বামী জানতো বলে প্রকৌশলী কান্তা আমার স্বামীকে হত্যার বেশ কয়েক মাস পূর্ব থেকেই নানাভাবে হত্যার হুমকি ধামকি দিয়ে আসছিল। এমনটি আসামী আমার স্বামীকে বৈদ্যুতিক মট দিয়ে হত্যা করার মতো ভয়ভীতি প্রদর্শনও করেছেন বলেও জানান বাদী সঞ্চিতা। অবশেষে নিজের ব্যক্তিগত বিষয়টি চিরদিনের জন্য ধামাচাপা দেবার জন্যই এমন হত্যার ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি বাদী পক্ষের।