স্টাফ রিপোর্টার, বাঘা : চাকুরি প্রত্যাশিদের নিকট থেকে মোটা অঙ্কের টাকা আদায়, নাম সর্বস্ব অপ্রচলীত পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ, ডিসির প্রতিনিধি ছাড়াই নিয়োগ পরীক্ষা গ্রহনসহ বেশ কিছু অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে রাজশাহীর বাঘা পৌরসভার মেয়র আব্দুর রাজ্জাক এখন টক অফ দা মিউনিসিপালে পরিনত হয়েছেন। চায়ের স্টল থেকে সুপার সপ, পৌরসদর থেকে প্রত্যন্ত অঞ্চল, প্রার্থী থেকে অভিভাবক সকলের মুখেই এখন একটাই আলোচনা, কি হবে বাঘা পৌরসভার ১০টি পদে নিয়োগ পরীক্ষার। কি হবে যারা নিয়োগ প্রাপ্তির আশায় সর্বশান্ত হয়ে টাকা প্রদান করেছেন? এই প্রশ্নটা আরও ঘনিভুত হয় গত ৪ ফেব্রুয়ারী নিয়োগ দানের শেষ দিনেও ডিসির প্রতিনিধির সাক্ষর না পাওয়ায়। ফলে চরম বিপাকে পড়েছেন বাঘা পৌর মেয়র আব্দুর রাজ্জাক।

জানা যায় বিভিন্ন জটিলতার কারনে প্রথম দফায় বাঘা পৌরসভার নিয়োগ সম্পুন্ন করতে না পেরে মন্ত্রনালয় বরাবর সময় বৃদ্ধির আবেদন করেন বাঘা পৌর মেয়র আব্দুর রাজ্জাক। তাঁর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ৫ অক্টোবর (২০২০) চার মাসের সময় বৃদ্ধি করে ১০ পদে নিয়োগ দেবার অনুমতি প্রদান করেন সংশ্লিষ্ঠ দপ্তর। সেই মোতাবেক গত ১০ অক্টোবর ২০২০ একটি স্থানীয় ও একটি ঢাকার পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয় এবং তা সু কৌশলে গোপন রাখা হয়। ওই বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী ৪১ জন চাকুরি প্রত্যাশী আবেদন করেন। গত ৮ জানুয়ারী(২০২১) উক্ত বিজ্ঞপ্তির আলোকে নিয়োগ পরীক্ষা সম্পুন্ন করা হয়।

কিন্তু উক্ত পরীক্ষায় ডিসির প্রতিনিধি সহকারি কমিশনার ভূমি (বাঘা) কামাল হোসেন অনুপস্থিত ছিলেন। পরে বিষয়টি গনমাধ্যম কর্মিদের নজরে আসলে তা বিভিন্ন অনলাইন পোর্টালসহ স্থানীয় ও জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। ফলে বেকায়দায় পড়েন মেয়র। তিনি নিয়োগ সম্পুন্ন করতে সংশ্লিষ্ঠ দপ্তরে ধরনা দিতে থাকেন। এর মাঝে গত সোমবার (০১ ফেব্রুয়ারি) সাদিকুন্নাহার নামের এক পরীক্ষার্থী রাজশাহী জেলা প্রশাসক বরাবর বাঘা পৌর মেয়রের বিরুদ্ধে নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।

সাদিকুন্নাহারের দাবি, তিনি টিকাদানকারি (মহিলা) পদের জন্য পরীক্ষায় অংশগ্রহন করে (রোল নাম্বার- ০২) লক্ষ্য করেন, পরীক্ষা কেন্দ্রে ডিসির মনোনিত প্রতিনিধি নিয়োগ বোর্ডের সদস্য সহকারি কমিশনার (ভুমি ) কামাল হোসেন অনুপস্থিত ছিলেন। তাঁর অনুপস্থিতিতেই লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা নেয়া হয়। যেটা স্থানীয় সরকার জনবল নিয়োগ নিতিমালার সু-স্পস্ট লঙ্ঘন। নিয়োগ সংশ্লিষ্টদের মাধ্যমে জানা যায়, ১০টি পদের জন্য মোট ৪১ জন প্রার্থী আবেদন করেন। এর মধ্যে ৮ জানুয়ারি বাঘার মোজাহার হোসেন মহিলা কলেজে ১০ পদের বিপরীতে মোট ২২ জন প্রার্থী অংশ নেন। প্রতিটি পদের বিপরীতে গড়ে মাত্র দুজন করে প্রার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন।

অপরদিকে সরকারি বিধি অনুযায়ী একটি পদে তিনজন করে প্রার্থী অংশ নেওয়ার কথা উল্লেখ থাকলেও সার্ভেয়ার পদের বিপরীতে মাত্র একজন প্রার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহন করেন। যদিও সরকারি বিধি অনুযায়ী একটি পদে নুন্যতম তিন জন প্রতিদ্বন্দ্বি থাকার বিধান রয়েছে। বাঘা পৌরসভার এমন বিতর্কিত নিয়োগ কার্যক্রম নিয়ে চাকরি প্রার্থীদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। নিয়োগে লুকোচুরি নিয়ে ক্ষোভের কথা জানিয়েছেন পৌরসভার একাধিক কাউন্সিলর। তারা জানান, অনেকটা গোপনে অপ্রচলিত ও অনিয়মিত পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে তা সুকৌশলে আড়াল করা হয়েছে।

উদ্দেশ্যে ছিল প্রার্থী সংখ্যা সীমিত রাখা ও নিজের পছন্দের প্রার্থীর নিয়োগ দান। বিজ্ঞপ্তিটি প্রচলিত দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত না হওয়ায় দূরের প্রার্থীরা তো বটেই, এলাকার অনেক যোগ্য প্রার্থীও আবেদন করার সুযোগই পাননি। এ বিষয়ে ডিসির প্রতিনিধি কামাল হোসেন বলেন, তিনি একটি প্রশিক্ষনজনিত (সরকারি) কারণে ৭ জানুয়ারী সন্ধায় কর্মস্থল ত্যাগ করেছেন। নিয়োগ পরীক্ষায় তিনি উপস্থিত ছিলেন না বিধায় তিনি সাক্ষর করেন নি।

রাজশাহী জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার বিভাগের দায়িত্বে নিয়োজিত উপ পরিচালক (ডিডি-এলজি) শাহানা আখতার জাহান বলেন, পৌর মেয়রের আবেদনের প্রেক্ষিতে আমরা প্রতিনিধি দিয়েছি। পরীক্ষার দিন তিনি কেনো উপস্থিত ছিলেন না সেটা প্রতিনিধি হিসেবে মনোনিত সহকারি কমিশনার (ভূমি) কে জিজ্ঞাসা করতে পারেন। নিয়োগ সংক্রান্ত অভিযোগ প্রসঙ্গে গতকাল বাঘা পৌর মেয়র আব্দুর রাজ্জাককে মুঠোফোনে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, ‘আমরা বিষয়টি মন্ত্রনালয়ে জানিয়েছি। সংশ্লিষ্ঠরা যা ভালো মনে করবেন তা করবেন’।