এফএনএস : বিজেপিতে যোগ দিয়েই নিজের সাবেক দল তৃণমূলের বিরুদ্ধে হুঙ্কার ছাড়লেন সাবেক বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী আসন্ন নির্বাচনের ঠিক আগে শুভেন্দু অধিকারীর মত প্রভাবশালী নেতাকে দলে টেনে মমতা বন্দোপাধ্যায়কে বড়সড় ধাক্কা দিলো বিজেপি। পাশপাশি ছোটবড় আরো ১০ নেতা গেরুয়া শিবিরে যোগ দেয়ায় প্রশ্ন উঠেছে, তবে কি ভাঙন দেখা দিলো তৃণমূল দুর্গে ? কেন্দ্রে ক্ষমতাসীনদের এই ধাক্কা জোড়া ঘাসফুল শিবির কিভাবে সামাল দেবে সেটাই এখন দেখার বিষয়। ইঙ্গিতটা আঁচ করা গিয়েছিল এক মাস আগেই। নির্বাচনী এলাকা নন্দীগ্রামে শুভেন্দুর জনসভায় দেখা যায়নি তৃণমূলের কোনো পোস্টার-ব্যানার।

এরপর থেকে একটু একটু করে দূরত্ব বেড়েছে দলের সঙ্গে। সব অস্পষ্টতা আর আলোচনার অবসান ঘটিয়ে বিজেপিতে যোগ দিলেন মমতা ব্যানার্জ্জির এক সময়ের ডান হাত হিসেবে পরিচিত বর্ষীয়ান এই নেতা। তৃণমূল থেকে সম্প্রতি পদত্যাগ করেছেন আরো দুই নেতা দেবাশিস জানা ও প্রফুল্ল বর্মণ। গুঞ্জন, তারাও যোগ দিতে পারেন গেরুয়া শিবিরে। এই ভাঙন অব্যাহত থাকলে সমূহ বিপদ অপেক্ষা করছে মমতা ব্যানার্জির জন্য। সামনে বিধানসভা নির্বাচনে মধ্য ও দক্ষিণবঙ্গের ৩০ থেকে ৩৫টি আসনে ফল বদলে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন এই শুভেন্দু অধিকারী।

পশ্চিমবঙ্গে কমিউনিস্টদের তিন দশকের শাসনামলে বিরোধীদের আন্দোলন শুরু হয় শুভেন্দুর নির্বাচনী এলাকা নন্দীগ্রাম থেকেই। নন্দীগ্রাম আন্দোলনের অন্যতম নেতা শুভেন্দু পরে এমএলএ, এমপি হন। দায়িত্ব পালন করেন রাজ্য সরকারের মন্ত্রী হিসেবেও। বিগত কয়েক বছরে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেয়ার তালিকায় ছিলেন অনেক নেতা। ২০১৭ সালে বিজেপিতে যোগদান করেন তৃণমূলের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা নেতা মুকুল রায়। যার স্পষ্ট প্রভাব দেখা গেছে গেল লোকসভা নির্বাচনে।

রাজ্যে তৃণমূলের ৪২ আসনের মধ্যে ১৮টি কব্জা করে হিন্দুত্ববাদী দলটি। আর গত রাজ্য নির্বাচনে বিধানসভার মোট ২৯৪টি আসনের মধ্যে ১২৬ টি দখল করে বিজেপি। দলত্যাগের জন্য বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অভিযোগ, দুর্নীতি আর স্বজনপ্রীতিতে ছেয়ে গেছে তৃণমূল। আর এর মদদদাতা খোদ মমতা বন্দোপাধ্যায় নিজেই।