বৃহস্পতিবার

১৮ই এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

৫ই বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ সংবাদ
গোদাগাড়ীতে দু’পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় আরো ২ আসামি গ্রেপ্তার এমপি-মন্ত্রীর স্বজনদের সরে দাঁড়াতে নির্দেশ সেনাবাহিনীতে ভুয়া নিয়োগ দিয়ে টাকা হাতিয়ে নেওয়া তিন প্রতারক রাজশাহীতে গ্রেফতার পুঠিয়ায় শাশুড়িকে হত্যা করে লাশ গুম করেছিলেন পুত্রবধূ! সারাদেশে উপজেলা নির্বাচনে ‘হস্তক্ষেপ’ নিয়ে চিন্তিত প্রার্থীরা মুজিবনগর সরকার আমাদের প্রেরণা : আসাদ রাজশাহী জেলার পবা-মোহনপুরসহ তৃতীয় ধাপে যেসব উপজেলায় ভোট মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির আলোকে প্রস্তুতি নিতে মন্ত্রীদের নির্দেশ দিলেন প্রধানমন্ত্রী মান্দায় রামনবমীর উৎসবে ভক্তদের মিলনমেলা তানোরে দুই শতাধিক আমগাছ কেটে জমি দখলের অভিযোগ/২

রাবিতে সকল নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিতের নির্দেশ মন্ত্রণালয়ের প্রেরিত চিঠির জবাব দেবেন ভিসি

Paris
Update : বুধবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০২০

এফএনএস : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির তদন্তের পর বিশ্ববিদ্যালয়ে সকল প্রকার নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিত রাখতে বলেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। বৃহস্পতিবার ও রোববার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব নীলিমা আফরোজ স্বাক্ষরিত পৃথক ১২টি চিঠি পাঠানো হয়, যার একটিতে এই নির্দেশনা রয়েছে। এই ১২ চিঠিতে উপাচার্য, উপ-উপাচার্যসহ আট জনের কাছে বিভিন্ন অনিয়মের ব্যাখ্যাও চাওয়া হয়েছে। চিঠিগুলো যাদের কাছে পাঠানো হয়েছে তারা হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আবদুস সোবহান, উপ-উপাচার্য চৌধুরী মো. জাকারিয়া, রেজিস্ট্রার এম এ বারী, আইন বিভাগের সভাপতি আবদুল হান্নান, আইন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শিবলী ইসলাম, ম্যাটেরিয়ালস সায়েন্সের সহকারী অধ্যাপক গাজী তৌহিদুর রহমান, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক এম মজিবুর রহমান এবং ডেপুটি রেজিস্ট্রার সাখাওয়াত হোসেন টুটুল।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আবদুস সোবহান চিঠি পাওয়ার কথা স্বীকার করে তার জবাব দেবেন বলেও জানিয়েছেন। এসব চিঠি সাংবাদিকদেরও দেখার সুযোগ হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে সকল প্রকার নিয়োগ স্থগিতের চিঠিতে উপাচার্যকে উদ্দেশ করে বলা হয়েছে, প্রশাসনিক কারণে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ধরনের নিয়োগ কার্যক্রম পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত রাখার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো। অধ্যাপক সোবহান উদ্দেশ্যমূলকভাবে শিক্ষক নিয়োগ নীতিমালা পরিবর্তন করে যোগ্যতা কমিয়ে নিজের মেয়ে ও জামাতাকে নিয়োগ দেন বলেও চিঠিতে বলা হয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে বলা হয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ নীতিমালা-২০১৫ শিথিল করে পরিবর্তিত নীতিমালা-২০১৭ অনুযায়ী উপাচার্য অধ্যাপক এম আবদুস সোবহান তার মেয়ে সানজানা সোবহান ও জামাতা এটিএম শাহেদ পারভেজকে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন।

তার এমন স্বজনপ্রীতি ও অনিয়মের কারণে দেশের ঐতিহ্যবাহী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে ও শিক্ষা-গবেষণার মান নিম্নগামী করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ওই নিয়োগ কেন বাতিল করা হবে না তা সাত কর্মদিবসের মধ্যে ব্যাখ্যা করতে চিঠিতে উপাচার্যকে নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে উদ্দেশ্যমূলকভাবে শিথিল করা ২০১৭ সালের নিয়োগ নীতিমালা বাতিল করে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নিয়োগ নীতিমালা প্রণয়নেও উপাচার্যকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে চিঠিতে। এর পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ডুপ্লেক্স বাড়ি নিয়মবহির্ভূতভাবে দখলে রাখার অভিযোগের প্রমাণ মেলায় উপাচার্যকে ওই বাড়ির ভাড়া বাবদ পাঁচ লাখ ৬১ হাজার টাকা বিশ্ববিদ্যালয় কোষাগারে জমা দেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রণালয়।

এদিকে শর্ত শিথিল করে পরিবর্তিত নীতিমালায় শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত থাকার কারণে উপ-উপাচার্য চৌধুরী মো. জাকারিয়া, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক বারী, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. এম মজিবুর রহমান, আইন বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক মোহাম্মদ আবদুল হান্নান ও সহকারী অধ্যাপক শিবলী ইসলাম, ম্যাটেরিয়াল সায়েন্সের সহকারী অধ্যাপক গাজী তৌহিদুর রহমান, ডেপুটি রেজিস্ট্রার সাখাওয়াত হোসেন টুটুলের কাছেও কৈফিয়ত চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে কেন আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে না তাও ব্যাখ্যা করতে বলা হয়েছে চিঠিতে। পৃথক আরেক চিঠিতে ইউজিসির তদন্ত কমিটিকে অসহযোগিতা করায় অধ্যাপক বারীকে রেজিস্ট্রার পদ থেকে অব্যাহতি দিতে উপাচার্যকে নির্দেশনা দিয়েছে মন্ত্রণালয়।

এই বিষয়ে পাঠানো চিঠিতে অধ্যাপক বারী তদন্ত কমিটিকে বিভিন্ন পর্যায়ে অসহযোগিতা করেছে, যা অসদাচরণের শামিল বলে উল্লেখ করা হয়। এসব বিষয়ে জানতে চাইলে রাবি উপাচার্য ও রেজিস্ট্রারের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তা সম্ভব হয়নি। তবে গতকাল মঙ্গলবার বিকালে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভারতীয় জনগণের পক্ষ থেকে দেওয়া দুইটি বাসের চাবি হস্তান্তর অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে উপাচার্য বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে যে চিঠিগুলো এসেছে তাতে তেমন কিছু নেই। শুধু শিক্ষক নিয়োগ নীতিমালার বিষয়ে কিছু কথা বলেছে। আমার মনে হয় যে এটা (চিঠির বিষয়গুলো) ওপেন না, তবে এটা নিয়ে আমাদের জবাব দিতে হবে। আমরা জবাব দিয়ে দিব। নিয়োগ স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে কি না প্রশ্ন করা হলে অধ্যাপক এম আবদুস সোবহান বলেন, না, না।

চিঠি তো এসেছেই গতকালকে (গত সোমবার)। ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার আবদুল বারীকে অব্যাহতির বিষয়ে উপাচার্য বলেন, এসব নিয়ে এখানে কথা বলব না। এটাতে একটা আইনি ব্যাপার আছে। আপনারা সবই জানতে পারবেন। চলতি বছরের ৪ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দুর্নীতির তথ্য-উপাত্ত সংবলিত ৩০০ পৃষ্ঠার অভিযোগ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, দুর্নীতি দমন কমিশন ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে (ইউজিসি) দিয়েছেন আওয়ামীপন্থি শিক্ষকদের একাংশ। পরে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তার ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে অভিযোগসমূহ তদন্তে ইউজিসি একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তদন্ত কমিটি উভয়পক্ষের বক্তব্য উপস্থাপনে উন্মুক্ত শুনানির আয়োজন করে। তদন্ত কার্যক্রম শেষে গত ২১ অক্টোবর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে সুপারিশসহ তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয় ইউজিসি।


আরোও অন্যান্য খবর
Paris