এফএনএস : বগুড়ায় শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উদযাপন উপলক্ষে মোমবাতি প্রজ¦লন অনুষ্ঠানে সহকারী কমিশনার ভূমির (এসিল্যান্ড) ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) জুতা পায়ে দিয়ে স্মৃতিসৌধে ওঠাকে কেন্দ্র করে সমালোচনা শুরু হয়েছে। তবে তাড়াহুড়োর মাঝে ভুলবশত এমনটি হয়েছে বলে অনুতপ্ত তারা। শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উদযাপন উপলক্ষে বগুড়ার শাজাহানপুরে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বুদ্ধিজীবীদের স্মরণে মোমবাতি প্রজ¦লন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। গত সোমবার সন্ধ্যায় উপজেলা পরিষদের কেন্দ্রীয় স্মৃতিসৌধে মোমবাতি প্রজ¦লন করার সময় জুতা পায়ে বেদিতে ওঠেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশিক খান ও শাজাহানপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিম উদ্দীন। এ ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তি ও মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝে সমালোচনার ঝড় ওঠে।

অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা পারভীন, উপজেলা চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন ছান্নু, ভাইস চেয়ারম্যান এম সুলতান আহমেদ, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান হেফাজত আরা মিরা, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তালেবুল ইসলামসহ স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন। জুতা পায়ে বেদিতে ওঠার বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশিক খান জানান, অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার আগে জরুরি কাজে তিনি বাইরে ছিলেন। অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার খবর পেয়ে দ্রুত অনুষ্ঠানস্থলে আসেন এবং তাড়াহুড়ো করে বেদিতে ওঠেন। এ সময় মনের ভুলে জুতা পায়ে বেদিতে ওঠেন। হঠাৎ মনে পড়তেই দ্রুত জুতা খুলে আবার বেদিতে ওঠেন।

তিনি বলেন, ‘এটা নিঃসন্দেহে অনিচ্ছাকৃত ভুল ছিল।’ এ বিষয়ে শাজাহানপুর থানার ওসি আজীম উদ্দীন জানান, তিনি জরুরি কাজে বগুড়া শহরে ছিলেন। ইউএনও অফিস থেকে ফোন পেয়ে দ্রুত অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছে ভুলবশত জুতা পরেই বেদিতে ওঠেন। আশপাশের লোকজন বিষয়টি নজরে দিলে দ্রুত জুতা খুলে আবার বেদিতে ওঠেন। তিনি বলেন, ভুলবশত এটা হয়ে গেছে। শাজাহানপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক কমান্ডার গৌর গোপাল গোস্বামী বলেন, ‘এর চেয়ে দুঃখজনক আর কী হতে পারে! নিঃসন্দেহে এটা শহীদদের প্রতি অসম্মানের বহিঃপ্রকাশ।’ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি দিলীপ কুমার চৌধুরী বলেন, ‘এসিল্যান্ড, ওসি স্মৃতিসৌধে জুতা পায়ে উঠে ঠিক করেননি। শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ না থাকলে এমনই হয়।