রবিবার

৩রা মার্চ, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

১৯শে ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

দুর্নীতি মামলা প্রত্যাহারে সরকার সুপারিশ করতে পারবে না : হাইকোর্ট

Paris
Update : সোমবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০২০

এফএনএস : ‘সরকার চাইলেই দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা কোনও দুর্নীতির মামলা প্রত্যাহার কিংবা প্রত্যাহারে কোনোরকম সুপারিশ করতে পারবে না’ উল্লেখ করে রায় ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। গতকাল রোববার দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘গত ১০ ডিসেম্বর একটি টিন চুরির মামলায় বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ রায় ঘোষণা করেন। ওই রায়ের ফলে এখন থেকে কোনও দুর্নীতি মামলায় সরকারের আইনি হস্তক্ষেপের আর কোনও সুযোগ থাকলো না।’ এছাড়া ১/১১ এর সময়ে দুদকের দায়ের করা দুর্নীতি মামলা প্রত্যাহারের আবেদন করার বিষয়েও হাইকোর্টের রায়টি সুনির্দিষ্টভাবে সব প্রশ্নের অবসান ঘটালো বলেও জানান দুদক আইনজীবী।

বিগত ১/১১ এরপর আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এলে ফৌজদারিসহ অসংখ্য মামলা প্রত্যাহারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সুপারিশ করা হয়। ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯৪ ধারা অনুযায়ী এসব মামলা প্রত্যাহারের আবেদন করা হয়। সেই সময় দুদকের মামলাও প্রত্যাহারের আবেদন করা হয়। এরপর অনেক ফৌজদারি মামলা প্রত্যাহার হলেও দুদকের বিশেষ আইনে দায়ের হওয়া মামলায় আইনি প্রশ্ন দেখা দেয়। ফলে দুদকের সেসব মামলা প্রত্যাহার স্থগিত থেকে যায়। এদিকে দুদকের মামলা প্রত্যাহারের বিষয়ে সরকারের সুপারিশের বিষয়ে আইনি প্রশ্ন দেখা দেওয়ার পরও সিলেটের এক ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে পাঁচটি টিন চুরির মামলা প্রত্যাহার করে সিলেটের বিশেষ জজ আদালত।

ওই মামলাটি প্রত্যাহারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও সুপারিশ করেছিল। যার ধারাবাহিকতায় সরকারের সুপারিশ মেনে চলে সিলেটের দুদক অফিস। ফলে আদালত মামলাটি চূড়ান্তভাবে প্রত্যাহারের আদেশ দেন। ওই আদেশের পর ২০১৬ সালে এসে দুদকের পক্ষ থেকে হাইকোর্টে একটি আবেদন করা হয়। দুদকের আবেদনে বলা হয়, যে প্রক্রিয়ায় এটি করা হয়েছে তা সঠিক আইন মেনে হয়নি। ক্রিমিনাল ল অ্যামেন্ডমেন্ট অ্যাক্ট-১৯৫৮ এর ১০(৪) ধারা অনুযায়ী সরকারের জায়গায় আইনে ‘কমিশন’ শব্দটি লেখা আছে। পরে দুদকের ২০১৬ সালের আবেদনটির চূড়ান্ত শুনানি নিয়ে গত ১০ ডিসেম্বর মামলাটির চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করেন হাইকোর্ট। হাইকোর্টে রায়ে বলা হয়, ‘এখন থেকে দুর্নীতি দমন কমিশনের মামলায় সরকারের হস্তক্ষেপ করার আইনগত কোনও সুযোগ নেই।’ তবে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগী চেয়ারম্যান আপিল করবেন কিনা সে বিষয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া কথা জানিয়েছেন তার আইনজীবী এসএম শাহজাহান।


আরোও অন্যান্য খবর
Paris