এফএনএস : করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে আটকে থাকা স্নাতক শেষ বর্ষ এবং স্নাতকোত্তর পর্বের পরীক্ষাগুলো নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। স্বাস্থ্যবিধি মেনে আগামী ২৬ ডিসেম্বর থেকে এসব পরীক্ষা শুরু হবে বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামানের সভাপতিত্বে অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের এক ভার্চুয়াল সভায় পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অনার্স শেষ বর্ষ ও মাস্টার্সের পরীক্ষাসমূহ স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে আগামী ২৬ ডিসেম্বর থেকে অনুষ্ঠিত হবে। শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ বিভাগ ও ইনস্টিটিউট থেকে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার সময়সূচি জানতে পারবে।

শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে প্রয়োজনে পরীক্ষাসমূহ তুলনামূলক কম বিরতিতে বা একইদিনে দুটি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষার সময়কাল হবে বিদ্যমান নির্ধারিত সময়ের অর্ধেক। একইভাবে ল্যাব-কেন্দ্রিক ব্যবহারিক পরীক্ষাসমূহ নেওয়া হবে। দেশে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের পর ১৮ মার্চ থেকে অন্য সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মতো বন্ধ রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। সেশনজট রোধে অনলাইনে পাঠদান চালিয়ে গেলেও এতদিন পরীক্ষা নিতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এরই মধ্যে গত ৩০ নভেম্বর ৪২তম (বিশেষ) এবং ৪৩তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। ৪৩তম বিসিএসে অংশ নিতে ৩০ জানুয়ারির মধ্যে শিক্ষার্থীদের আবেদন করতে হবে।

তবে যথাসময়ে পরীক্ষা না হওয়ায় ৪৩তম বিসিএস পরীক্ষার আবেদন নিয়ে বিপাকে পড়ে স্নাতক শেষবর্ষের শিক্ষার্থীরা। ৪৩তম বিসিএস পরীক্ষার আবেদনের সময় বাড়ানো ও দ্রুত স্নাতক শেষ বর্ষের পরীক্ষা নিতে গত বৃহস্পতিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে মানববন্ধন করে একদল শিক্ষার্থী। তারপরই অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের সভায় পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য বর্ষের শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার বিষয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “বিদ্যমান পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের আবাসিক সুবিধা প্রদান করা সম্ভব হচ্ছে না বিধায় সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও ইনস্টিটিউট নিজ নিজ শিক্ষার্থীদের সাথে যোগাযোগ ও উপস্থিতি নিশ্চিত করে বিভিন্ন পরীক্ষা গ্রহণ করবে। শিক্ষার্থীদের ইনকোর্স, মিডটার্ম, টিউটোরিয়াল পরীক্ষা অনলাইনে অ্যাসাইনমেন্ট, মৌখিক, টেকহোম পদ্ধতিতে নেওয়া হবে।