এফএনএস : আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, ১৪ দলের মুখপাত্র সাবেক শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু ও তার মেয়েকে নিয়ে ফেসবুক ও মেসেঞ্জারে আপত্তিকর ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা মামলায় জেলা আওয়ামী লীগের আইনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট রুহুল আমীন রিজভীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত। মঙ্গলবার রাতে তাকে থানায় ডেকে নেওয়া হয়। তারপর গত বুধবার দুপুরে গ্রেপ্তার দেখানো হয় রিজভীকে। বিকেলে তাকে আদালতে সোপর্দ করে পুলিশ ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করে।

গতকাল বৃহস্পতিবার অধিকতর শুনানির দিন ধার্য করে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। সকালে আদালতের বিচারক তারেক শামস মামলার শুনানি শেষে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিজভীর তিন দিনের রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর করেন। জানা গেছে, ঝালকাঠি জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট আ স ম মোস্তাফিজুর রহমান মনু বাদী হয়ে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়ের করেন।

এ মামলায় জেলা রিজভীকে গত বুধবার বিকাল পাঁচটায় জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত জেলহাজতে পাঠানো হয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হযরত আলী তদন্ত করে এ ঘটনায় তার সম্পৃক্ততা পাওয়ার পর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন জানিয়ে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়। অপরদিকে অ্যাডভোকেট রিজভীর শ্বশুর অ্যাডভোকেট ফজলুল হক তার জামিনের জন্য আবেদন জমা দিলেও আদালতের বিচারক তাকে কারাগারে পাঠান।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও গোয়েন্দা সূত্র জানায়, এ মামলায় সদর উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ইসরাত জাহান সোনালীকে প্রত্যক্ষদর্শী, জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য অ্যাডভোকেট মীর রফিকুল ইসলাম আজম, অ্যাডভোকেট আবদুল আলিম, অ্যাডভোকেট মাহাবুব তালুকদার ও মওদুদ আহম্মেদসহ কয়েকজনকে স্বাক্ষী করা হয়। পরের দিন সোমবার ওই মামলার পুলিশের উপপরিদর্শক হযরত আলী তদন্তকালে প্রধান সাক্ষী ইসরাত জাহান সোনালীর জবানবন্দিতে আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট রিজভীর নাম পান।

মামলায় দায়ের পর সেদিনই রাত ৯ টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ছাত্রলীগ নেতা শেখ রাব্বিকে গ্রেপ্তার করা হয় ও তার মোবাইল, ল্যাপটপসহ ফেসবুক আইডি ব্যাপক তল্লাশি করে অপপ্রচার সংক্রান্ত কোন তথ্য প্রমাণ না পাওয়ায় পুলিশ সাক্ষীদের জবানবনন্দি গ্রহণ শুরু করতেই অপপ্রচারের ঘটনা নাটকীয় রূপ নেয়। তদন্তকালে আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট রিজভী ছাড়া আরো কয়েকজন ছাত্রলীগ নেতাকর্মীর নাম বেরিয়ে আসায় শহরের পালবাড়ী এলাকার সুভাষ সিংহ রায় নামে এক ছাত্রলীগ নেতাকে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে।