স্টাফ রিপোর্টার, বাঘা : দ্রুতগতির ব্রডব্যান্ডের ইন্টারনেটে গতি না থাকায় দ্রুত সেবা দিতে পারছেনা। তাই বাধ্য হয়ে মডেমের সাহায্যে জনগণকে সেবা প্রদান করে আসছেন বলে জানালেন বাউসা ইউনিয়ন পরিষদ এর তথ্য কেন্দ্রের উদ্দ্যেক্তা শরিফুল ইসলাম। তিনি জানান, অভিযোগ দিলে মাঝে মধ্যে রাজশাহী অফিসের টেকনিশিয়ান এসে ঠিক করে দিয়ে যায়। পরে আবার যা তাই হয়ে যায়। একই ধরনের কথা জানিয়ে বাজুবাঘা ইউনিয়ন পরিষদ এর তথ্য কেন্দ্রের উদ্যেক্তা

আরিফ হোসেন বলেন, তার ইউনিয়নের মিডিয়া কনভেটর (রেটিফায়ার) নষ্ট রয়েছে। রাজশাহী অফিসে যোগাযোগ করলে জানানো হয়েছে, ব্যক্তিগতভাবে কিনে নিলে সেটিং করে দিবো। তা নাহলে, বরাদ্দ চেয়ে চাহিদা পাঠাবো। সরকারিভাবে সেটা আসলে পাবেন। যার কারণে স্থানীয়ভাবে ইন্টারনেট সংযোগ নিয়ে কাজ করতে হচ্ছে।

আড়ানী ইউনিয়ন পরিষদ তথ্য কেন্দ্রের উদ্যেক্তা আহসান হাবিব রুবেল হোসেন জানান, আমরা যেসব ওয়েব সাইডে কাজ করি, সাধারণ জনগণ সে সকল ওয়েব সাইডে দেশের বিভিন্ন জায়গায় সেবা গ্রহন করতে আসে। যেমন জন্ম নিবন্ধন,ভিজিডি, চাকরিসহ আরো অনেক কিছু। কিন্তু ইন্টারনেটের সমস্যার কারণে ওইসব ওয়েব সাইডে গিয়ে কাজ করতে পারিনা। এতে সেবা ব্যহত হচ্ছে। তিনি জানান, ১ এমবির নিচে স্পিরিট রয়েছে। সার্ভারে যে ব্যাটারি রয়েছে, সেটা ১ মিনিটও বেকাফ দেয়না, বিদ্যুৎ চলে গেলে সার্ভারটি বন্ধ হয়ে যায়। একই সমস্যার কথা জানা গেল উপজেলার আরো ৩টি ইউনিয়নেও।

বাংলাদেশ টেলি কমিউনিকেশন লিমিটেড (বিটিসিএল) ব্রডবেন্ড ইন্টানেট সংযোগের আওতায় রয়েছে উপজেলার ৬টি ইউনিয়ন। গ্রামে গ্রামে ব্রডব্যান্ড সেবা নিশ্চিত হওয়ার ফলে তৃণমূল পর্যায়ে স্কুল, কলেজসহ অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দ্রুতগতির ইন্টারনেট সেবার আওতায় নিয়ে আসা সম্ভব হচ্ছে। শহর আর গ্রামের মধ্যে ডিজিটাল বৈষম্য দূর হয়েছে। এ ছাড়া গ্রাম পর্যায়ে ওয়াইফাই প্রযুক্তির মাধ্যমে বিনামূল্যে দ্রুতগতির ইন্টারনেট সেবা একেবারে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে গেছে। ইউনিয়ন পর্যায়ে প্রশাসনিক কার্যক্রমে ডিজিটাল ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হয়েছে।

আর প্রকল্পের মাধ্যমে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট এর সংযোগ দেওয়া হয়েছে। এতে করে গ্রাম পর্যায়ে উচ্চগতির ইন্টারনেট সুবিধা পাওয়ার কথা। কিন্তু গতি কম থাকায় দ্রুতগতির ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট এর সুফল পাচ্ছেনা ইউনিয়নের জনগণ। প্রকল্প সংশ্নিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীনে ইউনিয়ন পরিষদ পর্যায়ে ফাইবার অপটিক নেটওয়ার্ক স্থাপনে ইনফো সরকার-৩ প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। প্রকল্পে ট্রান্সমিশন লিঙ্ক নির্মাণে ১০০ জিবি সক্ষমতার ডিডব্লিউডিএম কার্ড ব্যবহার করা হয়েছে। উপজেলা পর্যায়ে ১০ জিবিপিএস এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে ন্যূনতম এক জিবিপিএস ডাটা ট্রান্সমিশন সক্ষমতায় উন্নীত হয়েছে। আর সর্বাধুনিক প্রযুক্তি সহায়তা ও যন্ত্রপাতি সরবরাহ করছে চীনের হুয়াওয়ে। এটি রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকবে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের আওতায় বেসরকারি দুটি প্রতিষ্ঠান। গ্রাম পর্যায়ে গ্রাহককে সেবা পৌঁছে দেবে ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো।

শাহদৌলা সরকারি কলেজের প্রভাষক আবদুল হানিফ মিঞা বলেন, দ্রুতগতির ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে নতুন মাইলফলক। যা ইউনিয়নের তৃণমূল মানুষকে আরও বেশি ডিজিটাল সেবার আওতায় নিয়ে আসার পথ সুগম হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে তরুণ জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান হবে। গ্রাম পর্যায়ে সরকারি সেবায় আরও স্বচ্ছতা আসবে।

পাকুড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মেরাজুল ইসলাম মেরাজ সরকার জানান, ইন্টারনেটের গতি খুব ভালো না। সমস্যা হলে মাঝে মধ্যে ঠিক করে দিয়ে যায়। বাংলাদেশ টেলি কমিউনিকেশন লিমিটেড (বিটিসিএল), রাজশাহীর এ্যাসিসটেন্ড ম্যানেজার আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, ইউনিয়নে ২ মেগাবাইড এর সংযোগ রয়েছে। ইউনিয়নের বাইরে বেশি ব্যবহার করলে গতি কম হতে পারে। তবে ২ মেগাবাইড এর বেশি নিতে হলে,অফিসে যোগাযোগ করে টাকা দিয়ে সংযোগ নিতে হবে। সরকারিভাবে মিডিয়া কনভেটর (রেটিফায়ার) এর চাহিদা দেওয়া হয়েছে।