স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহী জেলার বাগমারায় অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি (ইজিপিপি) প্রকল্পের শ্রমিকদের নামে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার গোয়ালকান্দি ইউনিয়নে ভুয়া শ্রমিক দেখিয়ে টাকা উত্তোলন করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এছাড়াও দুই সপ্তাহের টাকা এক সঙ্গে দেয়ার সময় ৫০০ টাকা করে কম দেয়া হয়।

গত বুধবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে এসব অভিযোগ করেন দুইজন জব কার্ডধারি শ্রমিক। তাদের অভিযোগ, তালিকায় তাদের নাম রয়েছে। কিন্তু তারা জানেন না এবং কাজও করেননি। এরপরও তাদের নামে দুই সপ্তাহের টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। অভিযোগকারি শ্রমিকরা হলেন, গোদালকান্দি ইউনিয়নের গোয়ালকান্দি গ্রামের শ্রী অধির প্রামানিকের ছেলে শ্যামল কুমার ও আফাজ উদ্দিরে ছেলে আসাদুল ইসলাম। এদের মধ্যে আসাদুলের নাম তালিকার ৭০ নম্বরে এবং শ্যামলের নাম তালিকার ৯০ নাম্বারে রয়েছে। আসাদুল ইসলাম বলেন, অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচির তালিকায় তার না রয়েছে তা আমাকে কেউ জানায়নি।

ফলে আমি কাজও করিনি। কিন্তু অন্য শ্রমিকদের কাছে শুনে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস (পিআইও) থেকে তালিকা তোলা হয়। সেখানে আমার নাম রয়েছে এবং দুই সপ্তাহের ১০ দিনের ২০০০ হাজার টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। একই অভিযোগ করেন, শ্যামল কুমারও। তিনি কাজ না করলেও তার নামে ১০ দিনের দুই হাজার টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। এদিকে, মির্জাপুর গ্রামের শামীম হোসেন জানান, তিনি ১০ দিন কাজ করেছেন। তার জব কার্ডে ২০০০ টাকা মজুরি উল্লেখ করা হলেও তাকে দেয়া হয়েছে ১৫০০ টাকা। গত বৃহস্পতিবার কৃষি ব্যাংকের হামিরকৎসা শাখা থেকে তাকে এই টাকা দেয়া হয়। বাকি টাকা ব্যাংকে কেটে রেখেছে বলে আমাকে জানানো হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে গোয়ালকান্দি ইউনিয়নের একজন ওয়ার্ড সদস্য জানান, এ ইউনিয়নে অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি প্রকল্পের তালিকায় ১৫৭ জন শ্রমিকের নাম রয়েছে। পাঁচটি টিমে তারা কাজ করবেন। তিনি বলেন, ‘গত তিন সপ্তাহ কাজ করেছেন শ্রমিকরা। প্রতিটি টিমে ৩১ জন করে থাকার কথা। কিন্তু তাদের এলাকার টিমে ১০ জন কাজ করেছে। অন্য টিমগুলোতেও ১০ থেকে ১৫ জন শ্রমিক কাজ করেছে বলে শুনেছি।’ ওই ওয়ার্ড সদস্য জানান, নিয়ম অনুযায়ী সপ্তাহে পাঁচদিন শনিবার থেকে বুধবার পর্যন্ত কাজ করার সুযোগ পায়। প্রতিদিন তাদের মজুরি ২০০ টাকা। বৃহস্পতিবার তারা নিজে ব্যাংকের মাধ্যমে পাঁচ দিনের ১০০০ টাকা উত্তোলন করবে।

গত ১২ নভেম্বর থেকে চলতি মৌসূমের প্রকল্প শুরু হয়। গত ২৬ নভেম্বর শ্রমিকদের প্রথম দুই সপ্তাহের মজুরি দেয়া হয়। টাকা তুলতে প্রত্যেক শ্রমিকে ব্যাংকে যাওয়ার নিয়ম থাকলে সেটি মানা হয়না। ইউপি চেয়ারম্যান ও সুপারভাইজার সুপারিশ করে এক সঙ্গে একাধিক শ্রমিকের মজুরি উত্তোলন করে। তবে শ্রমিকের উপস্থিতি ছাড়া টাকা দেয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কৃষি ব্যাংকের হামিরকুৎসা শাখার ব্যবস্থাপক শামীমুজ্জামান। তিনি বলেন, ব্যাংকে কোন অনিয়ম হয়নি। অনিয়ম যদি করে থাকে তবে চেয়ারম্যান-মেম্বাররা করতে পারে। কারণ তারাই শুধু জানে কে কাজ করেছে বা করেনি।

তবে ৩২ জন শ্রমিক ব্যাংকে না আসায় তাদের টাকা ফেরত পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি। ৫০০ টাকা কেটে নেয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, প্রত্যেক শ্রমিকের জন্য ব্যাংকে হিসাব খোলা হয়েছে। প্রতিদিন মজুরির ৫০ টাকা করে কেটে রাখার নিয়ম রয়েছে। সে টাকা প্রকল্প শেষে শ্রমিকরা এক সঙ্গে পাবে। সে হিসেবে ১০ দিনের ৫০০ টাকা কেটে রাখা হয় বলে জানান তিনি। ইউপি চেয়ারম্যান আলমগীর সরকার বলেন, পাঁচটি টিমের সভাপতি পাঁচজন ওয়ার্ড সদস্য। কে কে কাজ করছে সে তালিকা তারা পাঠায়। আমি শুধু অনুমোদন দিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসে পাঠিয়ে দিই।

এখনো কোন অনিয়ম করার সুযোগ নেই বলে দাবি করেন তিনি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শরিফ আহম্মেদ বলেন, অভিযোগ পেয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। এক শ্রমিকের টাকা অন্য কারও তোলার সুযোগ আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ ধরণের সুযোগ আছে। তবে সেটি হয়েছে কিনা তা তদন্ত করে দেখার জন্যও নির্দেশনা দেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।