স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার তাহেরপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) হারুন-উর-রশিদকে প্রত্যাহার করে জেলা পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে। একটি দোকান থেকে ওই পুলিশ কর্মকর্তা টাকা নিচ্ছেন, এমন ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর গত বুধবার রাতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। গত মঙ্গলবার বাগমারা হেল্পলাইন নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে ১ মিনিট ৪ সেকেন্ড ও ৩৫ সেকেন্ডের দুটি ভিডিও পোস্ট করা হয়। ভিডিও দুটিতে দেখা যায়, একটি দোকানে এক ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা নিচ্ছেন এএসআই হারুন-উর-রশিদ।

তবে যিনি টাকা দিয়েছেন, তাঁকে দেখা যায়নি। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বাগমারার তাহেরপুরে আশিক টেলিকম নামের একটি দোকানে এসব ভিডিও ধারণ করা হয়েছে। দোকানের মালিক আশিকুর রহমান জানান, মঙ্গলবার এএসআই হারুন-উর-রশিদ তাঁর দোকানে এসেছিলেন। তখন আরেকজনের কাছ থেকে টাকা আদায় করে দেওয়ার কথা বলে তিন হাজার টাকা নিয়েছিলেন হারুন-উর-রশিদ। এ বিষয়ে জানতে গতকাল বৃহস্পতিবার হারুন-উর-রশিদের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করলেও তিনি ফোন ধরেননি। খুদে বার্তা পাঠিয়েও তাঁর সাড়া পাওয়া যায়নি।

এদিকে এএসআই হারুণ অর রশিদকে প্রত্যাহারের পর গতকাল বিকেলে রাজশাহীর সদর সার্কেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুমন দে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি ভুক্তভোগী ব্যক্তি ছাড়াও বাজারের বিভিন্ন ব্যক্তি ও পেশার লোকজনের সঙ্গে কথা বলেছেন। জেলা পুলিশের মুখপাত্র ইফতেখায়ের আলম জানান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সুমন দে কে তদন্ত করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে এই বিষয়ে গতকাল সন্ধ্যায় যোগাযোগের চেষ্টা করেও তদন্তকারী কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টা পর্যন্ত তিনি ঘটনাস্থলেই তদন্তকাজে অবস্থান করছিলেন।

এ সম্পর্কে রাজশাহী জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত জেলা পুলিশ সুপার ইফতেখার আলম বলেন, এএসআই হারুন-উর-রশিদের বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে। এরপর তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ব্যাপারে বাগমারা থানার অফিসার ইনচার্জ মোস্তাক আহম্মেদ জানান, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে ঘটনা আসলে কি ঘটেছিল তা জানা যাবে।